ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে এভাবেই সিলেট তামাবিল সড়কে অবরোধ যেন প্রতিদিনের ঘটনা। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ ঘাটতি যেন নিত্যদিনের বাস্তবতা। সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে মিলিয়ে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করছেন বাসিন্দারা। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে খাবার পানির সরবরাহও।
কিন্তু ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়। তীব্র লোডশেডিং থাকলেও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসায় চিন্তার ভাজ নগরীর লাখো মানুষের কপালে। এপ্রিল কিংবা মে মাসের তুলনায় জুন মাসে অনেক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ বেশি। ফলে একদিকে বিদ্যুৎহীনতা, অন্যদিকে বাড়তি বিদ্যুৎ সংকটে দিশেহারা গ্রাহকরা।
গ্রাহকরা দাবি করছেন, প্রিপেইড মিটারে যে টাকায় আগে এক মাস চলে যেত, সেখানে এখন মাস পেরোতে টাকার পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।
এই যেমন নগরীর একটি আবাসিক হোটেল—হোটেল ফরচুন গার্ডেন। মে মাসে প্রায় ১৩ হাজার ৮৯১ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিল এসেছিল প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার ৩৮০ টাকা। অথচ জুন মাসে প্রায় একই পরিমাণ ইউনিট ব্যবহার করেও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৬৫ হাজার টাকারও বেশি শুধু এই প্রতিষ্ঠান নয়, একই অভিযোগ এখন নগরীর অসংখ্য পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের।
আরও পড়ুন:
হোটেল ফরচুন গার্ডেনের ব্যবস্থাপক ধ্রুবেশ চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘সামান্য কিছু ইউনিটের ব্যবধান আছে। কিন্তু বিল প্রায় ৬৫ হাজার টাকা বেশি এসেছে।’
তবে লোডশেডিং কিংবা কথিত ‘ভুতুড়ে’ বিলের অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তাদের দাবি, নির্ধারিত ট্যারিফ অনুযায়ীই বিল করা হচ্ছে। আর জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনের তুলনায় কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় সময়ে সময়েই বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা তদন্ত করে দেখেছি গ্রাহক পর্যায়ে, সেখানে কোনো অতিরিক্ত বিল হয়নি। গ্রাহকরা গত জুন মাসে যেটা ব্যবহার করেছেন, জুলাই মাসে তার চেয়ে ব্যবহার অনেক বেশি ছিলো।’
এদিকে, সচেতন নাগরিকরা বলছেন, গ্রাহকের মিটার নিয়মিত প্রযুক্তিগতভাবে পরীক্ষা, বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং উৎপাদিত বিদ্যুতের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অভিযোগ অনেকটাই কমে আসবে। অন্যথায়, লোডশেডিংয়ের সঙ্গে বাড়তি বিলের এই উভয়মুখী সংকট জনভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।




