যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ১৭ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা। তবে এ সময়ের মধ্যেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত ছিল না। গেল ৮ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনা ঘটে। তবে, আপাতত দেশ দুটি কোন সংঘাতে না জড়ালেও স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে এখনও কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারে নি তারা।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচলের শর্ত পালনে ব্যর্থ হয়েছে তেহরান। আর ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার এবং জব্দকৃত ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা।
এরইমধ্যে ইরানের জ্যেষ্ঠ এক সূত্রের বরাতে রয়টার্স বলছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন-তেহরান কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। এগুলোর মধ্যে একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে ফিরে আসা এবং প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা। যদিও, এসব ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি হয়নি বলেও জানায় সূত্রটি।
এদিকে, মার্কিন গণমাধ্যম পিবিএসকে দেয়া সাক্ষাতকারে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পসের শীর্ষ উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাগদি বলেছেন, ট্রাম্প ক্ষমতা থেকে সরে না যাওয়া পর্যন্ত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত দীর্ঘায়িত হতে পারে। এই যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, ইরানের অভিজ্ঞতাও তত বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইআরজিসির শীর্ষ উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাগদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েক বার বলেছে তারা খার্গ দ্বীপ আক্রমণ করতে চায়। আর হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চায়। সে লক্ষ্যেই তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো আমাদের আক্রমণ করেছে। তবে দেশটি যতই চেষ্টা করুক না কেন, আমরা জয়ী হয়েছি এবং ভবিষ্যতেও হবো। আর এই যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, আমরা তত বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করবো।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সময় নিজেদের জলসীমায় তেল ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্ট ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল থেকে লাভবান হওয়া প্রতিটি পক্ষেরই পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের ওপর সৃষ্ট পরিবেশগত ক্ষতির প্রতিকার করার আইনগত ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এরইমধ্যে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পুরো নিয়ন্ত্রণ রয়েছে- মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন জোরালো দাবি সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল গেল এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুদ দ্রুত হারে কমে আসছে বলেও সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা।





