যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর প্রথম সপ্তাহ থেকেই সবচেয়ে বড় এজেন্ডা হয়ে হঠে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন পথ, হরমুজ প্রণালি'র নিয়ন্ত্রণ। প্রায় ৫ মাস পরে এসেও সেখানেই আটকে আছে সংকটের গতিপথ। হরমুজের বিকল্প পথ নিয়ে ওমান-ইরানের আলোচনার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফের দাবি করে বসেন এই জলপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের দখলে। যদিও দৃঢ়তার সঙ্গে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রধান।
এরমধ্যেই, ট্রাম্প কেবিনেটের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট মন্তব্য করেছেন, গেল রোববার মধ্যপ্রাচ্য থেকে যে পরিমাণ তেল রপ্তানি হয়েছে, ৬ মাস আগের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।
জ্বালানি মন্ত্রীর দাবি, উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর পাইপলাইন ও বিকল্প রপ্তানি ব্যবস্থার মাধ্যমে তেলের প্রবাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। এরমধ্যে,পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন সরবরাহ করা হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ লক্ষ ব্যারেল তেল। হুথিদের হামলার হুমকির মধ্যেও শুধুমাত্র পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন দিয়ে দৈনিক ৫০ লক্ষ ব্যারেলের বেশি তেল লোহিত সাগরে পাঠাচ্ছে সৌদি আরব। কিন্তু সিএনএনের দাবি, তাত্ত্বিকভাবে এই পরিসংখ্যান ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে থাকতেই পারে কিন্তু যাচাই করার উপায় নেই।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের বাজারকে চাঙ্গা রাখতে এটাই ওয়াশিংটনের চাল। জ্বালানি মন্ত্রী নিশ্চয়তা দিচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যের তেল পৌঁছে যাচ্ছে জায়গামতো, আর হরমুজের নিয়ন্ত্রণ আছে দাবি করে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আর, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্পের দাবির কোনো ভিত্তি বা যৌক্তিকতা পাচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। সিএনএন'র তথ্য, পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ আনা-নেওয়ার জন্য মার্কিন সামরিক প্রহরার প্রয়োজন হচ্ছে। সেখানে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে ধরে রেখেছেন ট্রাম্প তা স্পষ্ট নয়। এখনও পর্যন্ত এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী ৬৪টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। প্রাণ গেছে ১৭ নাবিকের। বরং ভিনদেশী পতাকাবাহী জাহাজের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের তেল প্রবেশ করছে ইরানে।





