এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে খাবার ভালোভাবে রান্না করলে বা ফুটিয়ে নিলে কি এই মাইক্রোপ্লাস্টিক কণাগুলো গলে নষ্ট হয়ে যায়? এ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও বিভিন্ন গবেষণা কী বলছে, জেনে নেওয়া যাক।
আরও পড়ুন:
মাইক্রোপ্লাস্টিক কী এবং কীভাবে খাবারে মেশে? (What is Microplastic & How it Enters Food)
মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিকের কণা (Microscopic Plastic Particles)। বড় আকৃতির প্লাস্টিক বর্জ্য ভেঙে রোদে ও পানিতে ক্ষয় হয়ে পরিবেশ, নদী-নালা ও মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকে মাছ ও উদ্ভিদের অন্ত্র বা মাংসপেশিতে প্রবেশ করে এই কণা খাদ্যশৃঙ্খলে যুক্ত হয়।
রান্না করলে কি মাইক্রোপ্লাস্টিক নষ্ট হয়ে যায়? (Does High Cooking Temperature Destroy Microplastics)
সহজ উত্তর হলো সাধারণ রান্নার তাপমাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পুরোপুরি বিনষ্ট হয় না।
- গলনাঙ্ক বা মেটিং পয়েন্ট বেশি: অধিকাংশ প্লাস্টিক গলতে বা ভেঙে যেতে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে অনেক বেশি তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়।
- রান্নার সীমাবদ্ধতা: সাধারণ নিয়মে ভাত, তরকারি, মাছ বা মাংস রান্নার সময় যে উত্তাপ তৈরি হয়, তা প্লাস্টিক কণাকে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট নয়। ফলে রান্নার পরও খাবারে প্লাস্টিক থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
আরও পড়ুন:
পানি ফোটালে বা মাছ-সবজি ধুলে কি এটি দূর হয়? (Boiling Water & Washing Vegetables Effect)
কিছু বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি সামান্য কমানো সম্ভব:
- পানি ফুটানোর কৌশল: গবেষকদের মতে, শক্ত পানি বা খনিজ সমৃদ্ধ পানি ফুটিয়ে নিলে কিছু মাইক্রোপ্লাস্টিক পানির ক্যালসিয়াম বা খনিজের সঙ্গে আটকে নিচে তলানি হিসেবে জমে। পরে পানি ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিলে প্লাস্টিক কণা কিছুটা কমে, তবে এটি শতভাগ কার্যকর নয়।
- মাছ পরিষ্কার: সামুদ্রিক ও দেশি মাছের পেটের ভেতর বা অন্ত্রে (Guts) সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক জমা থাকে। তাই রান্নার আগে নাড়িভুঁড়ি কেটে ভালোভাবে ফেলে দিলে ঝুঁকি অনেকটা কমে।
- শাকসবজি ধোয়া: বাইরের ধুলাবালি ও গায়ের প্লাস্টিক ধোয়ার মাধ্যমে দূর করা গেলেও উদ্ভিদের কোষ বা ভেতরের টিস্যুতে জমে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে দূর করা অসম্ভব।
আরও পড়ুন:
মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা? (Health Risks & Side Effects of Microplastics)
মানুষের শরীরে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীরা এখনও বিস্তর গবেষণা চালাচ্ছেন। তবে প্রাথমিক গবেষণায় জানা গেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশ করলে:
- শরীরের কোষে প্রদাাহ (Inflammation) বা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হতে পারে।
- অন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শ কমানোর সহজ উপায় (Tips to Reduce Microplastic Exposure)
খাদ্যাভ্যাস ও গৃহস্থালি ব্যবহারে সামান্য সচেতনতাই পারে প্লাস্টিক কণা শরীরে প্রবেশ করা আটকাতে:
- ১. গরম খাবার বা চা-কফি প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা থেকে বিরত থাকুন।
- ২. কাচ বা স্টেইনলেস স্টিলের (Glass or Stainless Steel) পাত্রে খাবার সংরক্ষণ ও রান্না করুন।
- ৩. মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাবার গরম করতে প্লাস্টিকের বদলে সিরামিক বা কাচের পাত্র ব্যবহার করুন।
- ৪. বোতলজাত পানির চেয়ে বিশ্বস্ত ফিল্টারের মাধ্যমে পরিশোধিত পানি পান করুন।
- ৫. একবার ব্যবহারযোগ্য সিঙ্গেল ইউজার প্লাস্টিকের (Single-use Plastics) ব্যবহার কমান।
আরও পড়ুন:
রান্নার পরও কি খাবারে থাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক? বিজ্ঞান ও গবেষকরা যা বলছেন
একনজরে দেশি খাবার ও মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, রান্নার তাপমাত্রার প্রভাব, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রতিকারের উপায়
খাবারে উপস্থিতি
• মাছ ও খাদ্যপণ্য: বাকৃবির গবেষণায় কই, বাটা, মেনি, গুলশা ও পুঁটি মাছের মাংসপেশি ও অন্ত্রে মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে।
• বাজারজাত ভোজ্যতেল, প্যাকেটজাত দুধ, চিনি ও বোতলজাত পানিতেও মিলছে এই বিষাক্ত কণা।
রান্না ও ফুটালে কি দূর হয়?
• নষ্ট হয় না: প্লাস্টিকের গলনাঙ্ক বেশি হওয়ায় সাধারণ রান্নার তাপমাত্রায় (১০০° সে.) মাইক্রোপ্লাস্টিক পুরোপুরি গলে বা ধ্বংস হয় না।
• পানি ফোটানো: শক্ত পানি ফুটিয়ে ছেঁকে নিলে তলানির সঙ্গে সামান্য কণা দূর হতে পারে, তবে তা শতভাগ সমাধান নয়।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রভাব
• মানবদেহের কোষে প্রদাহ (Inflammation) ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করতে পারে।
• দীর্ঘমেয়াদী বিষাক্ততা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা বর্তমানে চলমান।
ঝুঁকি কমানোর উপায়
• কাচ ও স্টেইনলেস স্টিলের পাত্রে খাবার রাখা এবং ওভেনে প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহার না করা।
• মাছের অন্ত্র/নাড়িভুঁড়ি ফেলে দেওয়া এবং শাকসবজি ভালো করে ধুয়ে রান্নার অভ্যাস করা।
বিষয় ও ক্যাটাগরি
বিজ্ঞান ও গবেষণার প্রাপ্ত তথ্য ও বিস্তারিত
(Presence in Food)
(Effect of Cooking & Boiling)
(Health Risks & WHO)
(Preventive Measures)
আরও পড়ুন:



