শুক্রবারের পর আজ দ্বিতীয় দফায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে রাজ্য সরকার। দাবি না পূরণ হলে অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ছাত্র মোর্চার। আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে আলোচিত ককরোচ জনতা পার্টিও।
ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ভারতের চাকরি-প্রত্যাশী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে প্রতিবাদের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে দিয়েছিল সেই আগুনই জ্বলছে পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ড। সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তসহ নানা দাবিতে রাঁচির জয়পাল সিং স্টেডিয়ামে আমরণ অনশনে বসেছেন শিক্ষার্থীরা, টানা ১৫ দিন ধরে চলছে আন্দোলন।
মূলত ১৪তম ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন-জেপিএসসিসহ সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্ন-ফাঁস এবং ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি রুপিতে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের। তাই, অবিলম্বে ১৪তম জেপিএসসি পরীক্ষা বাতিল এবং সিবিআই অথবা রাজ্য বাইরের হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের নেতৃত্বে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন তারা। পাশাপাশি ২০২২ এর পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত সব জেপিএসসি পরীক্ষার ফল বাতিল করে বেসরকারি সংস্থা টিডিপিএলের মাধ্যমে আবারও পরীক্ষা নেয়ার শর্ত আন্দোলনকারীদের।
কিন্তু রাজ্য সরকার কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় আমরণ অনশনে পথ বেছে নিয়েছেন ছাত্রনেতারা। ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার ছাত্র নেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতোর নেতৃত্বে ২৩ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে আন্দোলন। আর অনশন চলছে গেল ৭ দিন ধরে।
আন্দোলনের জেরে ২৫ থেকে ২৭ জুলাই নির্ধারিত জেপিএসসি প্রধান পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। এছাড়াও, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আশ্বাস দিয়ে শুক্রবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা। আজ দ্বিতীয় দফায় আরও একবার নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার প্রতিনিধিরা, যাদের নেতৃত্বে এই আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে।
তবে, সরকার দাবি না মানলে আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন ছাত্র নেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো এবং তার সঙ্গীরা।
ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ছাত্রদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলেও ছাড় দিচ্ছে না বিজেপি। প্রশ্ন-ফাঁস ও নিয়োগ অনিয়মের বিচারে সিবিআইয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ঝাড়খণ্ডের বিজেপি নেতা ও সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে।
শুরুতে আন্দোলনের পরিসর ছোট হলেও ধীরে ধীরে শিক্ষার্থী, চাকরি-প্রত্যাশী, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন এতে যুক্ত হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে ছাত্রজনতাকে রুখে দেয়া কঠিন হবে এবং রাজ্য সরকারের ওপর ক্রমেই চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।




