গতকাল (বুধবার, ৫ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে ডোব্রিন্ডট বলেন, ‘এর আগে বিমানবন্দরের কাছে অননুমোদিত ড্রোন ও হাইব্রিড হুমকির নজির থাকলেও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন সরাসরি বিমানবন্দরে চলে আসা একটি নতুন ও গুরুতর হুমকি।’ তিনি জানান, এটি কোনো অপেশাদার কাজ নয়; বরং অত্যন্ত পেশাদারভাবে পরিকল্পনা করে এটি চালানো হয়েছে। বিদেশি কোনো শক্তি এর পেছনে থাকতে পারে বলেও ধারণা করছেন তিনি।
কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমানবন্দরের দক্ষিণ রানওয়ের কাছে একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন পাওয়া যায়। এই রানওয়েটি মূলত পণ্যবাহী (কার্গো) ফ্লাইটের জন্য ব্যবহৃত হয়। ঘটনাস্থলে একটি বোমা নিষ্ক্রিয়কারী রোবট পাঠিয়ে ড্রোনটির ডেটোনেটরটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, রোবটটি ইউক্রেনের একটি কার্গো বিমানের খুব কাছে অবস্থান করছে। লিপজিগ/হালে বিমানবন্দরটি ইউরোপের অন্যতম প্রধান কার্গো হাব এবং ২০২২ সালে রাশিয়ার হামলার পর এটি ইউক্রেনের ‘আন্তোনভ এয়ারলাইনস’-এর অন্যতম প্রধান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রানওয়ে বন্ধ থাকায় একটি কার্গো বিমান অবতরণ না করে ফিরে যাওয়ার সময় একটি অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুর সঙ্গে সেটির সংঘর্ষ হয়। বিমানটি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরে হ্যানোভার বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেছে। জার্মান সংবাদপত্র বিল্ড-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীরা ধারণা করছেন কেবল কারিগরি ত্রুটির কারণেই ড্রোনটিতে থাকা বিস্ফোরকটি ফাটেনি। দ্বিতীয় উড়ন্ত বস্তুটিকে হামলার দৃশ্য ধারণ করার জন্য নজরদারি ড্রোন হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ায় জার্মানি ও ইউরোপজুড়ে এ ধরনের নাশকতার শঙ্কা বেড়েছে। নেটো জোটভুক্ত পোল্যান্ড ও রোমানিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং বাল্টিক সাগরের তলদেশে ইন্টারনেট কেবল বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাগুলো নাশকতার ভীতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইসিক্স-এর প্রধানও সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপ এখন শান্তি ও যুদ্ধের মাঝখানে এক অনিশ্চিত অবস্থানে রয়েছে।





