রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বিল পাস কংগ্রেসে, স্বাক্ষরের অপেক্ষায় ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন | ছবি: সংগৃহীত
0

ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি দ্বিদলীয় বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। এ আইনের আওতায় রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি করা চীন ও ভারতের মতো দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল (বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর) প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ২৬২–১৫৯ ভোটে পাস হয়। এর আগে বিলটি সিনেটে অনুমোদন পেয়েছিল। এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য বিলটি হোয়াইট হাউসে পাঠানো হবে।

দুই বছরের বেশি সময়ের মধ্যে ইউক্রেনকে সহায়তা করতে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া এটিই প্রথম আইন। গত জুলাইয়ে মারা যাওয়া রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে বিলটির নামকরণ করা হয়েছে। গ্রাহাম ডেমোক্রেটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের সঙ্গে বিলটি প্রণয়ন করেছিলেন।

বিলটিতে রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক এবং রুশ জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত ট্যাংকারের গোপন বহরের ওপরও নিষেধাজ্ঞার বিধান রাখা হয়েছে। এসব ট্যাংকার পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য পরিবহনে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বিলটি পাসে জোরালো তৎপরতা চালিয়েছিলেন। গত মাসে সিনেটে ভোটের আগে তিনি মার্কিন সিনেটরদের প্রতি সরাসরি আবেদনও জানান।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব বিলটির বিরোধিতা করলেও দলের ৫৮ জন সদস্য রিপাবলিকানদের সঙ্গে ভোট দেন। ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফ্রিসের আপত্তি ছিল, বিলে প্রেসিডেন্টকে যে নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে।

হাকিম জেফ্রিস প্রতিনিধি পরিষদে বলেন, ‘যেভাবে বিলটি লেখা হয়েছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে বাধ্য নন।’ তার ভাষ্য মতে, বিলে এত বেশি ফাঁক রাখা হয়েছে যে এতে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম।

প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বলেন, ‘বিলটি রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্র ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর সর্বোচ্চ চাপ তৈরি করবে।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পুতিন এমন দেশগুলোর অর্থ ও সম্পদের ওপর ভর করে এই বিধ্বংসী যুদ্ধ চালিয়েছেন, যারা বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। আজ তা শেষ হচ্ছে।’

বিল পাসের পর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক সদস্যরা যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেন, ‘নতুন নিষেধাজ্ঞা পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনতে এবং যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন।’ তিনি বলেন, ‘ভ্লাদিমির পুতিন, আমরা আপনাকে চিনে ফেলেছি। আর ইউক্রেন, আপনারা একা নন।’

এএম