ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিতে আসা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কয়েক বছর ধরে কারাবন্দী। দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ফাঁসসহ একাধিক অভিযোগে ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঠানো হয় কারাগারে। দুর্নীতির দায়ে এখন তিনি ১৪ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
শুধু তাই নয় একের পর এক মামলায় জড়ানো হয় তার স্ত্রী বুশরা বিবিকেও। একই সঙ্গে দমন-পীড়ন চলে তার দল পিটিআই-এর ওপর। গ্রেপ্তার করা হয় দলের শীর্ষ নেতাদের। এমনকি ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়েও জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা।
কারাবাসের তিন বছর ঘিরে গেল বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভের ডাক দেয় পিটিআই। অবিলম্বে ইমরাইন খানের মুক্তির দাবি জানিয়ে সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে তারা। এসব সমাবেশে জড়ো হয় হাজার হাজার সমর্থক। ইমরান খানের ছবি, ব্যানার ও দলীয় পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দেয় তারা।
বিক্ষোভকারীদের একজন বলেন, ‘পাকিস্তানকে বাঁচাতে হলে ইমরান খানকে মুক্তি দিতে হবে। এই দেশে আইনের কোনো বালাই নেই।’
আরও পড়ুন:
কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই দেশটির বন্দর নগরী করাচিতে সমাবেশ করতে জড়ো হয় কয়েকশ' পিটিআই কর্মী। তাদের মিছিলে বাধা দিলে একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় আন্দোলনকারীরা। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত বাহিনী। মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় করাচি। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় বেশ কয়েকজন পিটিআই সমর্থক ও নেতাকর্মীকে।
শুধু করাচি নয় লাহোর পাঞ্জাবসহ প্রায় সব প্রদেশেই ইমরানের সমর্থনে বিক্ষোভে নামে শত শত মানুষ। সারা দেশেই ব্যাপক ধরপাকড় চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে ইমরান খানের মুক্তি দাবিতে হওয়া বিক্ষোভে খবর প্রচারে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ।
ইমরান খান জীবিত আছেন কি না তা নিয়ে সন্দিহান তার দুই ছেলে। কারণ বেশ কয়েক মাস যাবত তাদের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না তারা।
ইমরান খানের ছেলে কাশেম খান বলেন, ‘ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় আমরা চাইলেও পাকিস্তানে যেতে পারছি না। আমাদের কোনো পরিচয়পত্র নেই। তাই পাসপোর্ট করাও সম্ভব নয় এই মুহূর্তে। এসব নানা সমস্যার কারণে আমাদের পাকিস্তানে যাওয়ার সুযোগ নেই।’
ইমরান খানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, আট মাসের বেশি সময় ধরে ইমরান খানকে তার পরিবার ও আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। তাকে সুষ্ঠু বিচারের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ইমরান ও তার স্ত্রী বেআইনি নির্জন কারাবাস অবিলম্বে বন্ধ করতে আহ্বান জানায় সংস্থাটি।




