রেসকোর্সের মিশন হাসপাতালটির লাইসেন্স নবায়ন না করা, সি-ক্যাটাগরির লাইসেন্স দিয়ে বি-ক্যাটাগরির পরীক্ষা পরিচালনা করার কারণে- জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযানের সময় সাংবাদিকদের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করে কর্তব্যরত গণমাধ্যমকর্মীদের বেরিয়ে যেতে নির্দেশ দেন একজন চিকিৎসক। এছাড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়মিত অভিযান নিয়েও মন্তব্য করেন এই চিকিৎসক।
মিশন হাসপাতালের প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. কামাল হোসেন বলেন, ‘রোগীর সেবার ক্ষেত্রে ইনভেস্টিগেশন দরকার এবং সেই ইনভেস্টিগেশনের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই করা উচিত। হ্যাঁ, যেহেতু এটা একটা সি ক্যাটাগরির ইনভেস্টিগেশন আগে হতো, তারা তাদের অধিকারের বাইরে যেহেতু বি ক্যাটাগরি করেছে, অবশ্যই তারা পানিশমেন্ট পাওয়ার যোগ্য।’
কুমিল্লা নগরীতে নিবন্ধিত হাসপাতাল আর ডায়াগনস্টিকের সংখ্যা ১৩২টি। হাসপাতালের নিবন্ধন থাকলেও প্যাথলজি বিভাগের অনুমোদন নেই অনেকের। এসব হাসপাতালে প্রায়ই ভুল চিকিৎসা আর অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অনেকের লাইসেন্স নবায়ন করা হয় না দীর্ঘদিন।
অভিযোগ আছে, সরকারি হাসপাতাল ও বাসস্টেশন এলাকায় দালালরা দূর থেকে আসা রোগীদের বিভ্রান্ত করে, কম খরচে চিকিৎসা দেয়ার ফাঁদে ফেলেন। তাছাড়া মেডিকেল অফিসার হিসেবে যারা কাজ করছেন, তাদের সঙ্গেও হাসপাতালের কোনো চুক্তিপত্র থাকে না।
আরও পড়ুন:
মিশন হাসপাতালের ডায়াবেটিক ও স্ত্রীরোগের চিকিৎসক ডা. লুবনা ইয়াসমিন বলেন, ‘যেহেতু এটা একটা এখন এখানে একটা অনিয়ম হয়েছে, সে অনিয়ম অবশ্যই অবশ্যই পানিশমেন্ট পাওয়ার যোগ্য। ঠিক আছে? আমাদের শুধুমাত্র একটাই চাওয়া, আমার যে সি ক্যাটাগরির যে টেস্টগুলো আমি করার করার কথা, যেটা আমি ইমারজেন্সি সার্ভিস দিতে পারব, সেটার অনুমোদন দিলেই আমরা খুশি।’
ডেল্টা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল করিম বলেন, ‘আমাদের এখানে নিয়োগভিত্তিতে তেমন একটা হয় না সাধারণত। আমরা ধরেন যে এখানে আগে, আমি যদি কোনো কারণে চলে যাই, আমার জুনিয়র কেউ কাউকে আমি ডিউটিগুলো দিয়ে যাই যে তুমি এ ডিউটিগুলি করিও। এভাবে আর কি মূলত হয়।’
বেসরকারি হাসপাতাল পরিচালনার বিধিমালা অনুসরণ না করেই অনেক হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে। পর্যাপ্ত ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী না থাকলেও রোগী ভর্তি করা হয় নানান প্রতারণায়। সম্প্রতি পাঁচটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেয় জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ।
কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. ওসমান হোসাইন জাবির বলেন, ‘উনারা কোনো ধরনের কাগজপত্র দেখাতে পারেনি আমাদেরকে। আমরা অনলাইনেও দেখলাম যে এটির আপডেটেড না কাগজপত্রগুলো, যার কারণে আমরা সাময়িকভাবে এটি বন্ধ করার ডিসিশন নিয়েছি।’
কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসনিক দিক থেকে যদি কোনো ভুল দেখা দেয়, আমরা সে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই নীতি ও বিধি অনুযায়ী। সেখানে যদি কোনো চিকিৎসক বা চিকিৎসক নেতারা বা চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে সিনিয়র চিকিৎসক হিসেবে কেউ আমাদেরকে বাধা দিতে আসে ব্যাপারটা আসলে দুঃখজনক।’
নিরাপদ, মানসম্মত ও নিয়মতান্ত্রিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রোগীদের স্বার্থবিরোধী কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ- এমনটাই প্রত্যাশা নগরবাসীর।





