ক্রীড়াঙ্গনে অ্যাডহক কমিটির দাপট, নির্বাচিত নেতৃত্বের অপেক্ষায় ৫০ ফেডারেশন

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ | ছবি: এখন টিভি
0

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২ বছরেও পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব পায়নি দেশের প্রায় ৫০টি ফেডারেশন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, ফুটবল ফেডারেশন এবং অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ছাড়া সবই কার্যক্রম পরিচালনা করছে অ্যাড-হক কমিটির মাধ্যমে। ফেডারেশনের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্তরা অবশ্য এমন পরিস্থিতির জন্য দায় দিচ্ছেন বিগত দিনের সংস্কৃতির জন্য।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরপরই ক্রীড়াঙ্গনে নাটকীয়তার কেন্দ্রে চলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তৎকালীন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের দেশছাড়ার পর মাত্র ২ বছরের ব্যবধানে ৩ জন সভাপতি দেখেছে বিসিবি। ফারুক আহমেদ-আমিনুল ইসলাম বুলবুলের অপসারণের পর অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব শেষে নির্বাচনের মাধ্যমে বিসিবি প্রধানের চেয়ারে বসেন তামিম ইকবাল।

বিসিবি ছাড়াও দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ৫২টি ফেডারেশনের মধ্যে নির্বাচিত কমিটি এসেছে, আর কেবল ফুটবল ফেডারেশন এবং অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে। গণঅভ্যুত্থানের পর কাজী সালাউদ্দিন যুগের অবসান ঘটিয়ে বাফুফে প্রধান হন তাবিথ আউয়াল।

তবে ক্রিকেট-ফুটবল কিংবা অলিম্পিক ছাড়া নির্বাচিত কমিটি দেখেনি প্রায় অর্ধশত ফেডারেশন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সার্চ কমিটির মাধ্যমে সব ফেডারেশনেই দেয়া হয় অ্যাডহক কমিটি। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর সেখানেও এসেছে পরিবর্তন। তবে নির্বাচন নয়, আবারও অ্যাড হক কমিটির পথেই হেঁটেছে বর্তমান সরকারও। সম্প্রতি ২৭টি ফেডারেশনে অ্যাডহক কমিটিকে দায়িত্ব দিয়েছে এনএসসি।

হকি ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি সদস্য আশরাফ আলম বলেন, ‘বিগত সময়ে আমরা দেখেছি যে ফেডারেশনগুলোতে প্রচুর অপেশাদার লোকজন ছিল, যারা আসলে খেলা সম্বন্ধে কিছু জানতো না। যার ফলশ্রুতিতে এই জায়গাটাতে ঠিক করতে হবে এবং এই ঠিক করার ক্ষেত্রে আমাদের কিছুটা চ্যালেঞ্জ তো নিতেই হচ্ছে।’

মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শারমিন রত্না বলেন, ‘মহিলা ক্রীড়া সংস্থার বিষয় যেটা আমি জানি, ৮ বছর ধরে এডহক কমিটি চলছে। আবার আমরা আসলাম অবশ্যই এতদিন ধরে যেহেতু নির্বাচন হয়নি, ওটা একটা বিগ চ্যালেঞ্জের বিষয়। কারণ ৬৪টি জেলা, ৮টা বিভাগ সব মিলায়ে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার একটা কাজ আছে।’

বাকি ফেডারেশনগুলো এখনও পায়নি নতুন কমিটি। ফলে অনেকটাই স্থবির হয়ে আছে সেসব ফেডারেশনের কার্যক্রম। যদিও এনএসসির ক্রীড়া পরিচালকের আশ্বাস, শীঘ্রই নির্বাচিত নেতৃত্ব নিয়ে আসবেন তারা।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক জাহিদ পারভেজ বলেন, ‘আমরা একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে যাতে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন গণতান্ত্রিকভাবে, যারা ক্রীড়াঙ্গনের গুণীজন আছে, ক্রীড়া সংগঠক, করপোরেট হাউজ আছে, ক্রীড়াবিদ আছে, তারা নিশ্চয়ই এখানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটা পরিবেশ পাবে।’

সব স্থবিরতা পার করে দ্রুতই কার্যকর কমিটি ক্রীড়াঙ্গনে সচল অবস্থা আনবে, এমনটাই প্রত্যাশা ক্রীড়া সংগঠকদের।

এএম