ফক্স নিউজের ‘অ্যাট নাইট’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের সঙ্গে সারা দিন আলোচনা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি খুব দ্রুতই খুলে দেয়া হবে। তারা যদি আবার সরে দাঁড়ায়, তাহলে তারা কঠিন হামলার মুখে পড়বে।’ ট্রাম্প এর আগেও তেহরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছেন। পরে আবার আলোচনার অগ্রগতির কথাও বলেছেন, তবে সংঘাত এখনো থামেনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস দুটি আঞ্চলিক সূত্র ও একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই চুক্তিতে প্রণালির অপর পাশের নিয়ন্ত্রণকারী ওমানের সম্মতিও থাকবে। বুধবারই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানকে হুমকি দিতে থাকবে, ততদিন ওমানের সঙ্গে চুক্তি বিলম্বিত হবে।’ উল্লেখ্য, বিশ্বের জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছিলেন—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর তেহরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা কমানো এবং ইরানের ধর্মীয় শাসকদের উৎখাতের পরিবেশ তৈরি করা—তার কোনোটিই তিনি এখনো অর্জন করতে পারেননি। এদিকে ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজ ও বন্দরে অবরোধ বজায় রেখেছে এবং ইরান হরমুজ দিয়ে বেশিরভাগ চলাচল বন্ধ রেখেছে।
মধ্যস্থতাকারী কাতার আগেই জানিয়েছিল, সংঘাত অবসানে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কাতারের আমিরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি টেলিফোনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মতপার্থক্য কমিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, প্রণালির মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে।
এদিকে ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতিরাও লোহিত সাগরে সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। ইয়েমেনের কাছে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এতে জাহাজটি ডুবে গেলেও ১৪ জন নাবিকের সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে ৬৪টি ঘটনায় অন্তত ১৭ জন নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে ৩ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ১৮ জন সেনার মৃত্যুর কথা জানিয়েছে।





