স্পেনে অভিবাসী ঢলকে ঘিরে নতুন বিতর্ক; আলোচনায় ট্রাম্প-নেতানিয়াহু

স্পেনে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা
স্পেনে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা | ছবি: সংগৃহীত
0

সেউতায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আকস্মিক ঢলের পেছনে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু কলকাঠি নাড়তে পারেন বলে মনে করেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের অভিমত, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও ন্যাটো ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে স্পেনের তিক্ত সম্পর্কের কারণে মরক্কোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে তেল-আবিব।

রাতারাতি সমুদ্র পাড়ি দিয়ে মরক্কো থেকে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় ৬০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর ঢল; বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে আকস্মিক অভিবাসীপ্রত্যাশীদের ঢলের পেছনে মানব পাচারকারী মাফিয়াদের দায়ী করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যানচেজ। তার অভিযোগ, সম্প্রতি স্পেনের আদালতের দেয়া রায়কে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করেছে মানব পাচারকারীরা।

তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইস্যুটি নিয়ে নতুন নতুন তথ্য দিচ্ছে বিশ্ব গণমাধ্যমগুলো। কয়েকজন বিশ্লেষকের বরাতে আল-জাজিরা বলছে সাম্প্রতিক ঢলের পেছনে কলকাঠি নাড়তে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। কেননা গাজা-ইরান যুদ্ধ ও ন্যাটোর পরিচালন ব্যয় ইস্যুতে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর চক্ষুশূল স্পেনের বামপন্থি প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যানচেজ।

একারণে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনাকে পুঁজি করে স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতা ও মেলিলার ওপর মরক্কোর নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি জানানোর সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে ইসরাইল। কেননা সেউতা ও মেলিলাকে স্পেনের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি মরক্কো।

আরও পড়ুন:

এছাড়াও, বিশ্লেষকদের দাবিকে আরও শক্ত করছে শুক্রবার জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যাননের এক্স পোস্ট। সবসময় ইসরাইলকে জ্ঞান দেয়া স্পেন কেন আফ্রিকায় ঔপনিবেশিক ছিটমহল টিকিয়ে রেখেছে সেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন ড্যানন। পাশাপাশি ইসরাইলের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের লক্ষ্যে গঠিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডে স্বাক্ষরকারী দেশ মরক্কো। একারণে তেল- আবিবের হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে মরক্কোর প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে সীমান্তে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল উস্কে দেয় বলে দাবি বিশ্লেষকদের।

পাশাপাশি, আকস্মিক অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢলের জন্য মরক্কো ও আলজেরিয়ার দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সম্প্রতি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের আলজেরিয়া সফরের যোগসূত্র থাকতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কেননা দীর্ঘদিন থেকেই মরক্কোর নিয়ন্ত্রণে থাকা পশ্চিম সাহারা অঞ্চলের স্বাধীনতা দাবি করে আলজেরিয়ার মদদপুষ্ট সামরিক ও রাজনৈতিক সংগঠন পোলিসারিও ফ্রন্ট। একারণে স্যানচেজের আলজেরিয়া সফরের কয়েকদিনের মাথায় সেউতা আকস্মিক অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল দেখলো বলে শঙ্কা বিশ্লেষকদের।

তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে টক অফ দ্য টাউনে পরিণত হওয়ায় সেউতার অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢলকে ভালোভাবে নিচ্ছে না ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডানপন্থি নেতারা। তারা স্পেন সরকারের নমনীয় অভিবাসন নীতিকে দায়ী করেছেন। এছাড়াও, সেউতার ঘটনার জেরে ইতালি সরকার স্পেনকে শেনজেন মুক্ত চলাচল অঞ্চল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছে। স্পেনসংলগ্ন সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ফ্রান্সও।

এফএস