ইউরোপের সামরিক স্বায়ত্তশাসন: পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সহযোগিতার পথে ফ্রান্স-জার্মানি

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ | ছবি: সংগৃহীত
0

ইউরোপের সামরিক স্বায়ত্তশাসন ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে জার্মানি ও ফ্রান্স তাদের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার করেছে। গতকাল (শুক্রবার, ১৭ জুলাই) নিয়মিত মন্ত্রিসভা বৈঠকের অংশ হিসেবে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এক বৈঠকে মিলিত হন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই নেতা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চীনের তীব্র অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার মোকাবিলা করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, অতিরিক্ত উৎপাদনক্ষমতা এবং মুদ্রার মান কম রেখে চীন ইউরোপের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে।

মের্ৎস বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং সম্মিলিত প্রতিরক্ষা রক্ষায় যা প্রয়োজন, আমরা তা-ই করছি।’ তিনি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা তৈরির মতো লক্ষ্যগুলোর কথা উল্লেখ করেন। উভয় নেতা চীনের সমালোচনা করে বলেন, বেইজিং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিয়ম মানছে না। ওইসিডিভুক্ত অন্য দেশগুলোর তুলনায় চীন তাদের শিল্প খাতে অন্তত আট গুণ বেশি রাষ্ট্রীয় সহায়তা দিচ্ছে। মের্ৎস জানান, তিনি বাণিজ্য যুদ্ধ চান না, তবে মুদ্রার মান ও শিল্প খাতের অতিরিক্ত উৎপাদন নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চান।

ওয়াশিংটন ইউরোপে তাদের প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি কমিয়ে দেয়ার আভাস দেয়ায় ফ্রান্সের পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থায় জার্মানির সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করেন দুই নেতা। মের্ৎস বলেন, ‘আমরা এখানে ধাপে ধাপে এগোচ্ছি। এটি শেষ পর্যন্ত একটি নতুন মতবাদে রূপ নিতে পারে, তবে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।’ যেকোনো নতুন সহযোগিতা ন্যাটোর বিদ্যমান কাঠামোর পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি জানান।

প্রথমবারের মতো জার্মান সেনারা ফ্রান্সের একটি পরমাণু মহড়ায় অংশ নেবে। দুই নেতা একটি বিমানঘাঁটি পরিদর্শন করেন, যেখানে পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ফরাসি রাফায়েল যুদ্ধবিমানে জ্বালানি ভরার সময় পাশে একটি জার্মান ইউরোফাইটার যুদ্ধবিমান অবস্থান করছিল। তবে ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করেছেন, ফরাসি পরমাণু কর্মসূচির পুরো অর্থায়ন সব সময় ফ্রান্সই করবে।

কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র‍্যালির (আরএন) সংসদীয় দলের নেতা মারিন লো পেনের সঙ্গে জার্মানি কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মের্ৎস বলেন, ফরাসি ভোটাররা যাঁকেই বেছে নিক না কেন, জার্মানির সহযোগিতার হাত ফ্রান্সের প্রতি প্রসারিত থাকবে।

এ বছরের শুরুতে যৌথ যুদ্ধবিমান প্রকল্প ভেস্তে গেলেও ‘ফিউচার কমব্যাট এয়ার সিস্টেম’ (এফসিএএস)-এর ক্লাউড-ভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থা ও অন্য প্রযুক্তিগত কাজগুলো অব্যাহত থাকবে বলে দুই নেতা জানান। ফ্রান্সের দাসো ও এয়ারবাসের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে এই প্রকল্পের মূল অংশটি বাধাগ্রস্ত হয়েছিল, যা মোকাবিলায় ভবিষ্যতে তদারকি আরও বাড়ানোর কথা বলেন ম্যাক্রোঁ।

এএম