হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বনগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্প। এখানে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছেন ভূমিহীন ও অসহায় ১৬০টি পরিবার। সেই নিরাপদ আশ্রয়ই এখন পরিণত হয়েছে আতঙ্কের ঠিকানায়। নদী ভাঙনের আশঙ্কায় প্রতিদিন উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে প্রকল্পের বাসিন্দাদের।
আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘেঁষে খোয়াই নদীতে বসানো হয়েছে ১৫টিরও বেশি ড্রেজার। দিন-রাত চলছে বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজার বাজার বালুমহালের ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের সম্মতি আর রাজনৈতিক প্রভাবে গত দুই মাস ধরে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আশ্রয়ণটা খুবই অবস্থা খুবই খারাপ। বিশেষ করে পাড়গুলা ভাইঙ্গা পড়ে যাইতেছে সম্পূর্ণ।’
শুধু নদী থেকে বালু তোলাই নয়, প্রকল্পসংলগ্ন ১৩টি পরিবারের মালিকানাধীন জমি দখল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। দখল করা জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে বালুর ডিপো।
আরও পড়ুন:
স্থানীয়দের মধ্যে অন্য একজন বলেন, ‘কুরবানির কিছুদিন আগ থেকে তারা জোরপূর্বক এখানে বালু তুলতাছে আমাদের জায়গা থেকে। এখানে ১৩টা ফ্যামিলির জায়গা আছে। ওরা প্রতিবাদ করছিল, প্রতিবাদ করাতে ওনারে হুমকি-ধামকি দিছে।’
অভিযোগ রয়েছে, আশ্রয়ণের পাশেই বালু উত্তোলন করছেন স্থানীয় ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি। তার দাবি, সরকার নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত বালু উত্তোলনকারী মোস্তফা হোসেন মস্তু বলেন, ‘আশ্রয়ণের পেছনে সরকার যে জায়গায় দেখাই দিছে ওই জায়গার ভেতরে আমরা মেশিনটা নিয়া ওই কলাটা বাড়ায় নিয়া এখানে আমরা বালু তুলতেছি। কিন্তু মেশিন বৈধ জায়গার মধ্যে। সরকার যে জায়গায় লাল নিশানা মারছে এই জায়গার ভিতরে আছে।’
এদিকে বালুমহালের সীমানা নির্ধারণ করে জেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ড স্থাপনের কথা থাকলেও ঘটনাস্থলে তা দেখা যায়নি। তবে অভিযোগ খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
হবিগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবুল হাসেম বলেন, ‘যদি কেউ আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাছে যায়, আপনি বলেছেন যে ৫০০ মিটার দূর থেকে তোলে। তা আমাদের কাছে তথ্য আছে যে তার চেয়েও বেশি দূরে আছে। যদি নিকটে গিয়ে থাকে এবং এই কাজ কেউ করে থাকে, তাহলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।’
প্রায় ২৭ কোটি টাকায় রাজার বাজার বালুমহালের ইজারা পায় রাহী ট্রেডার্স। তবে শর্ত ভেঙে আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশ থেকে বালু উত্তোলন চললেও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা না থাকায় ক্ষোভ স্থানীয়দের।





