এক আবেগঘন বিদায়ী বক্তব্যে নিজের রাজনৈতিক যাত্রা সমাপ্তির ঘোষণা দিলেন যুক্তরাজ্যের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। হাউস অব কমন্সে বিরোধী দলের সঙ্গে শেষ প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটেনের শীর্ষ পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্য কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের সময় প্রত্যেক প্রধানমন্ত্রীই জানেন, একদিন এমন সময় আসবে যখন তাদের দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। আমার সেই দিন এসে গেছে। এটাই আমার রাজনৈতিক যাত্রার সমাপ্তি। দুই বছর দায়িত্বে থাকার পর আমি দেশকে আগের চেয়ে ভালো অবস্থায় রেখে যাচ্ছি। আমরা যা যা অর্জন করেছি, তার জন্য আমি গর্বিত।’
পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আপাতত কিছুদিন লোকচক্ষুর আড়ালে সময় কাটানোর পরিকল্পনা তার। তবে, রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার পর নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনার কথা জানাননি তিনি।
এসময় ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টিকে ২০১৯ সালের বড় বিপর্যয় থেকে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক বিজয়ের পথে নিয়ে যাওয়ার কথা স্মরণ করেন তিনি। নিজের দায়িত্ব পালনের দুই বছরের অর্জন নিয়ে তিনি গর্বিত উল্লেখ করে নিজ দল, আইনপ্রণেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে এখন পর্যন্ত যা যা অর্জন করেছি এবং আপনাদের সবাইকে নিয়ে আমি গর্বিত। আমার উত্তরসূরি এবং আপনাদের প্রত্যেকের প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। আমি আপনাদের সুস্বাস্থ্য ও সুখ কামনা করি। গ্যালারিতে উপস্থিত সবাই লেবার সরকারের হয়ে দেশের জন্য সংগ্রাম করছেন। আপনাদের জন্যই আমি রাজনীতিতে এসেছি। স্ত্রী ও সন্তানদেরকেও আমার ভালোবাসা জানাচ্ছি। বিদায়।’
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ধীরগতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিতর্কিত নিয়োগসহ বেশ কিছু কারণে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ চাপ, দলের সাংসদদের অসন্তোষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর গেল ২২ জুন কিয়ার স্টারমার নিজ দল ও প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। উত্তরসূরী হিসেবে বার্নহ্যামকে পূর্ণ সমর্থন দেয়ারা কথাও নিশ্চিত করেন তিনি।
তবে, নতুন নেতার জন্য ব্রিটেনেকে আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না। ইতোমধ্যে লেবার পার্টির ৪০৩ সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩২২ জনের সমর্থন পেয়ে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিশ্চিত করতে আর মাত্র একটি ভোট প্রয়োজন তার। এতে করে তিনি এক প্রকার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতৃত্ব নিশ্চিত করবেন।
১৬ জুলাই নির্বাচন শেষ হতেই পরদিন বার্নহ্যামকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নেতা ঘোষণা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্টারমার আনুষ্ঠানিকভাবে কিং চার্লসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলে, রাজা নতুন লেবার নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন নতুন নেতা। লেবার পার্টির কয়েকজন সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, আগামী ২০ জুলাই অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।





