মঙ্গলবার এক গোপন ব্যালটে মেলোনির দল ‘ব্রাদার্স অব ইতালি’র পক্ষ থেকে দেয়া একটি প্রস্তাব মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে হেরে যায়। প্রস্তাবটি ছিল ভোটারদের দলীয় তালিকায় পছন্দের প্রার্থীকে সরাসরি ভোট দেয়ার সুযোগ দেয়া। সরকারি জোটের কিছু সদস্য পক্ষ ত্যাগ করায় এমন পরাজয় ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই পরাজয়ের পর মেলোনির পদত্যাগ দাবি করেছে বিরোধীরা। আগামী বছর ইতালিতে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে জোটের ভেতরে এমন ফাটল মেলোনির জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মার্চে বিচার বিভাগীয় সংস্কার নিয়ে এক গণভোটে হারের পর এটি প্রধানমন্ত্রীর জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা।
ব্রাদার্স অব ইতালি, লিগ ও ফোরজা ইতালিয়া নিয়ে গঠিত সরকারি জোট একটি আনুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থার প্রস্তাব করেছে। যেখানে কোনো জোট ৪২ শতাংশের বেশি ভোট পেলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে আসন বোনাস পাবে। ফোরজা ইতালির নিম্নকক্ষের নেতা এনরিকো কস্তা জানান, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই আইনটি পাস করা জরুরি।
২০২২ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মেলোনি আগামী সেপ্টেম্বরে যুদ্ধ-পরবর্তী ইতালির দীর্ঘতম মেয়াদে থাকা প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার নিজের মিত্রদের ভোট না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছিলাম। জলাভূমি আবারও জয়ী হল।’
আরও পড়ুন:
বিশ্লেষকদের মতে, জোটের ভেতরে প্রায় ৩০ জন আইনপ্রণেতা সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, মেলোনির দল এখনো জনপ্রিয় হলেও সরকারি জোট এখন বিরোধী বামপন্থি জোটের চেয়ে পিছিয়ে আছে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০২৭ সালের নির্বাচনে কোনো পক্ষই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
বিরোধী দলগুলোর দাবি, মেলোনি নিজের পুনর্নির্বাচনের পথ সুগম করতেই এই বিতর্কিত সংস্কারের চেষ্টা করছেন। বর্তমান ব্যবস্থায় এক-তৃতীয়াংশ আসন সরাসরি ভোটে এবং বাকিগুলো আনুপাতিক হারে নির্বাচিত হয়। মেলোনির নতুন আইনটি পাস হলে প্রাক-নির্বাচনি জোটগুলো বাড়তি সুবিধা পাবে, যা ২০২২ সালের নির্বাচনে তার জোটকে বড় জয় পেতে সাহায্য করেছিল।




