চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধ সংস্কারে ধীরগতি

মেঘনা নদী
মেঘনা নদী | ছবি : এখন টিভি
0

ধীরগতিতে চলছে চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধের সংস্কার কাজ। এতে করে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। স্থানীয়রা বলছেন, বাঁধের সংস্কার কাজ শুরুর পর থেকে বন্ধ হয়েছে মেঘনার ভাঙন। তবে ধীরগতিতে চলায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে শঙ্কিত তারা।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এরই মধ্যে সংস্কার কাজের সুফল পেতে শুরু করেছে স্থানীয়রা। নানা সীমাবদ্ধতায় কাজ কিছুটা ধীর হলেও নির্ধারিত সময়ে শেষ করার আশা করছেন তারা।

প্রমত্তা মেঘনার ভাঙন থেকে রক্ষায় ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হয় চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধের সংস্কার কাজ। মাদ্রাসা রোড লঞ্চঘাট থেকে পুরানবাজার রনগোয়াল পর্যন্ত ৩ দশমিক ২২ কিলোমিটার বাঁধের সংস্কার কাজ চলছে।

ডাম্পিং করা হচ্ছে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ও পাথরের তৈরি ব্লক। তবে ধীর গতিতে চলায় ৪ বছর মেয়াদী প্রকল্পের প্রায় ৩ বছর শেষে কাজ সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ৪৯ ভাগ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮১৫ কোটি টাকা। ১৯টি প্যাকেজে নয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। ২০২৭ সালের জুন মাসে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

আরও পড়ুন:

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পুরানবাজার অংশে অন্তত এক হাজার মিটার এলাকাজুড়ে তীব্র নদীভাঙন দেখা দেয়। এতে শতাধিক বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেঘনায় বিলীন হয়। তবে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর থেকে নদীভাঙন বন্ধ রয়েছে। ফলে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

নদী পাড়ের হাজারো বাসিন্দা তাদের পূর্ব পুরুষের ভিটায় বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন। কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করার দাবি তাদের।

পুরানবাজারের ব্যবসায়ী গোপাল সাহা জানান, দীর্ঘদিনের নদীভাঙনের ঝুঁকির কারণে ব্যাংক এ বাজারের ব্যবসায়ীরা ঋণসহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলো। স্থায়ীভাবে ভাঙনরোধ হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরবে এবং ঐতিহ্যবাহী পুরানবাজার আবারও প্রাণ ফিরে পাবে বলে মনে করেন তিনি।

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে নদীতে স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কিছুটা ধীরগতিতে কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৯ গামঙতবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।’

এফএস