নিউ ইয়র্কে ৩৫ তলা ভবন ধসের ঝুঁকি, বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক

নিউ ইয়র্কে শহরের ৩৫ তলা ভবন
নিউ ইয়র্কে শহরের ৩৫ তলা ভবন | ছবি : সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ম্যানহাটনের ব্যস্ত মিডটাউন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ৩৫-তলা ভবনে গুরুতর কাঠামোগত ত্রুটি দেখা দেয়ায় বহুতল ভবনটির ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পার্শ্ববর্তী একাধিক আবাসিক ভবনের বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি জানান, প্রাথমিক সংস্কারের পর ভবনের বর্তমান অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

নিউ ইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনের ৪২তম সড়কে অবস্থিত ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফাইজারের সাবেক সদর দপ্তরকে আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে রূপান্তরের কাজ নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছে কর্তৃপক্ষ।

কাঠামোগত ত্রুটি দেখা দিলে নির্মাণাধীন এই ৩৫ তলা ভবনটির ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ২১ ও ২২ তলায় দুটি সাপোর্ট কলাম বেঁকে যাওয়া ছাড়াও মেঝে দেবে ধসের আশঙ্কায় সেখানে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত খবর পাওয়া যায়নি।

গেল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে ভবনটিতে কর্মরত নির্মাণ শ্রমিকরা প্রথমে ভবনের ভেতরে ফাটল দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবা বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে নিউ ইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট, পুলিশ, ডিপার্টমেন্ট অব বিল্ডিংস এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবনটি ঘিরে ফেলেন।

এরপর কর্তৃপক্ষ দ্রুত ভবনের পার্শ্ববর্তী স্কুলের কয়েক'শ শিশু, একাধিক আবাসিক ভবনের শত শত বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়। এলাকাজুড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে।

আরও পড়ুন:

নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জানান, প্রকৌশলীরা ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে অস্থায়ী স্টিলের সাপোর্ট বা শোরিং বসানোর কাজ শুরু করেছেন। যাতে ভবনটি আরও নড়াচড়া না করে। আপাতত পুরো ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকি নেই। তবে মেরামতের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভবনটি বন্ধ থাকবে। তদন্ত হবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে।

নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, ‘আমি নিউ ইয়র্কবাসীকে নিশ্চিত করতে চাই, গতকাল সকাল থেকে কাঠামোটির আর কোনো নড়াচড়া হয়নি। জরুরিভিত্তিতে কাজ চলছে। পাশাপাশি বিষয়টি পর্যবেক্ষণে আছে। কাজ শেষ হলেই, ডিওবি পরীক্ষা করে নিশ্চিত করবে, নকশা ও সব নিয়মকানুন মেনে কাজ হয়েছে কিনা। নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।’

প্রকৌশল দল ভবনটির প্রতিটি অংশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভবনটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে ওই এলাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘আমি ভালো করেই জানতাম, বাড়ি ফেরা সহজ হবে না। তাই অ্যাপার্টমেন্টে বসে ওদের বের হয়ে যেতে বলার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আমার ধারনা ছিলো,সত্যিকারের বিপদে পড়লে ওরা আমাকে জানাবে।’

অন্য আরেকজন বলেন, ‘স্পষ্টতই এখানে কিছু একটা ভুল হয়েছিল। যার কারণে মেঝেগুলো ধসে পড়েছে। আর ভাগ্যিস, পরিস্থিতি যতটা খারাপ হতে পারত, ততটা হয়নি।’

প্রকল্পটির প্রকৌশলীরা জানান, ভবনটিতে প্রায় দেড় হাজার অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। যা নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অফিস থেকে আবাসন প্রকল্পে রূপান্তর প্রকল্পগুলোর একটি। তবে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং জরিমানার রেকর্ড রয়েছে। তাই সাম্প্রতিক এ ত্রুটির ঘটনায় নির্মাণকাজে নিরাপত্তা বিধি ঠিকমতো মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এফএস