বাবা দিলেন হাজতে; গ্রিলে শার্ট পেঁচিয়ে ছেলের ‘আত্মহত্যা’

নিকলি থানা, কিশোরগঞ্জ
নিকলি থানা, কিশোরগঞ্জ | ছবি: এখন টিভি
0

মাদকাসক্ত ছেলেকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে এক বাবার শেষ চেষ্টা, ছেলের বিরুদ্ধে নিজেই করেছিলেন মামলা। সেই মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আজ (বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই) সকালে ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দেন তিনি। ছেলেকে থানায় রেখে খাবার ও কাপড়চোপড় দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আসে জীবনের সবচেয়ে নির্মম সংবাদ। থানা হাজতেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে তার একমাত্র ছেলে।

সকাল ১০টার দিকে নিকলী থানা হাজত থেকে রুবেল মিয়া (২২) নামে এক আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার কারাপাশা ইউনিয়নের শহরমূল এলাকার রাজা হাওলাদারের একমাত্র ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুবেল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বারবার তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও তিনি মাদক থেকে সরে আসতে পারেননি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার আচরণ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অশান্তি ও নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বাবা নিজেই তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

নিহতের বাবা রাজা হাওলাদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘রুবেল আমার একমাত্র ছেলে। তাকে অনেক আদর করে বড় করেছি। কিন্তু অল্প বয়সেই সে মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়ে। অনেক বুঝিয়েছি, চিকিৎসার চেষ্টা করেছি। কোনো লাভ হয়নি। তিন মাস কারাভোগ করেও তার কোনো পরিবর্তন হয়নি। পরে আবারও মাদকে জড়িয়ে পড়ে এবং পরিবারের সবার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতো। আজও আমি নিজেই পুলিশকে খবর দেই। পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর আমি খাবার ও কাপড়চোপড় দিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। পথে জানতে পারি সে আত্মহত্যা করেছে। এখন আবার থানায় যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:

নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রুবেলের বিরুদ্ধে বাবার দায়ের করা মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিলো। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে থানা হাজতে রাখা হয়।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রুবেল নিজের গায়ের শার্ট খুলে হাজতের গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে আত্মহত্যা করেন। পরে আদালতে নেয়ার জন্য পুলিশ সদস্যরা হাজতে গেলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

পুলিশ জানায়, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এসএইচ