সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের রায় বহাল

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল | ছবি: বিবিসি
0

২০২৪ সালে স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন জারি সংক্রান্ত মামলায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে দেয়া সাত বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আজ (বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই) এই রায় ঘোষণা করা হয়। অ্যাসোসিয়েট প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সামরিক আইন জারিকে কেন্দ্র করে ইউনের বিরুদ্ধে চলা একাধিক ফৌজদারি মামলার মধ্যে এটিই প্রথম মামলা, যেটি দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে পৌঁছেছে।

গত এপ্রিলে সিউল হাইকোর্ট ইউনকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দিয়েছিলেন। সেই রায়ই বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের রায়ে বলা হয়, সামরিক আইন ঘোষণার আগে মন্ত্রিসভার সদস্যদের আলোচনার অধিকার লঙ্ঘন, ভুল ঢাকতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র জালিয়াতি ও পরে সেই নথি ধ্বংস করা এবং অভিশংসনের কয়েক সপ্তাহ পর তাকে গ্রেপ্তারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রচেষ্টাকে অবৈধভাবে প্রতিহত করতে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ইউন।

সিউলের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ভারী অস্ত্রধারী সেনা ও পুলিশের অবরোধ ভেঙে আইনপ্রণেতারা সামরিক আইন প্রত্যাহারের পক্ষে ভোট দেয়ায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউনের ঘোষণা কার্যকারিতা হারায়। এতে ইউনের মন্ত্রিসভা এই ব্যবস্থা তুলে নিতে বাধ্য হয়।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায় চূড়ান্ত। এখনো আটক থাকা ইউন রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন না। অন্যান্য মামলায় তার বিচার এখনো চলছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, বিদ্রোহের অভিযোগে দেয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিরুদ্ধেও তিনি আপিল করেছেন।

এক বিবৃতিতে ইউনের আইনজীবী দল সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে ‘গভীর অনুশোচনা’ প্রকাশ করেছে। তাদের ভাষ্য, বিচারপতিরা যথেষ্ট পর্যালোচনা ছাড়াই একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার নিষ্পত্তি করেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায় সাংবিধানিক আদালতের রায়ের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ২০২৫ সালের এপ্রিলে সাংবিধানিক আদালত ইউনকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের সময় জানিয়েছিলেন, তার সামরিক আইন ঘোষণার আইনি ভিত্তি ছিল না এবং প্রয়োজনীয় পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি।

২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর রাতে টেলিভিশনে সামরিক আইন ঘোষণার আগে ইউন তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার ১১ জন সদস্যকে ডেকেছিলেন। তবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হান দক-সুসহ অংশ নেয়া বেশ কয়েকজন সদস্য সাক্ষ্য দিয়েছেন, ইউন কোনো আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে তার সিদ্ধান্তের কথা তাদের জানিয়েছিলেন। সিউল হাইকোর্ট জানান, বৈঠকে অন্য নয়জন মন্ত্রিসভা সদস্যকে না ডেকে বা দেরিতে অবহিত করে ইউন তাদের অধিকারও লঙ্ঘন করেছেন।

স্বল্প সময়ের হলেও ইউনের এই সামরিক আইন ঘোষণা দক্ষিণ কোরিয়াকে গভীর রাজনৈতিক সংকটে ঠেলে দিয়েছিল। এতে দেশটির রাজনীতি ও উচ্চ পর্যায়ের কূটনীতি স্থবির হয়ে পড়ে এবং আর্থিক বাজারেও অস্থিরতা দেখা দেয়। ২০২৫ সালের জুনে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইউনের উদারপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী লি জে মিয়ং জয়ী হওয়ার পরই কেবল সেই অস্থিরতা কমে আসে।

বিদ্রোহের অভিযোগে যাবজ্জীবন সাজার বিরুদ্ধে আপিলের পাশাপাশি আরেকটি মামলায় ৩০ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধেও আপিল করেছেন ইউন। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা বাড়াতে এবং দেশে সামরিক আইন জারির পরিস্থিতি তৈরি করতে তিনি ড্রোন উড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। ইউনের আইনজীবীরা বলছেন, উত্তর কোরিয়া থেকে হাজার হাজার ময়লা বহনকারী বেলুন দক্ষিণে পাঠানোর জবাবেই এই ড্রোন উড়ানো হয়েছিল।

এএম