ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতি দেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ওয়ারশর কাছে মোতায়েন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
ওয়ারশর কাছে মোতায়েন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা | ছবি: রয়টার্স
0

রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতি দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাকে প্যাট্রিয়ট তৈরির লাইসেন্স দিতে যাচ্ছি। ব্যাখ্যা করে দিলে তারা খুব দ্রুত এগুলো তৈরি করতে পারবে বলে আমি মনে করি।’ বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ট্রাম্প জানান, তার এই সিদ্ধান্তের কথা তিনি এখনো প্রতিরক্ষা পণ্য নির্মাতা লকহিড মার্টিন ও রেথিয়নকে জানাননি, ‘তবে তা ঠিকঠাক হয়ে যাবে।’ প্যাট্রিয়ট বিশ্বের সেরা এবং সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিমানপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। ক্ষেপণাস্ত্রসহ একটি ব্যাটারির দাম প্রায় ১০০ কোটি ডলার। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ অনুযায়ী, বছরে মাত্র ৬০০টি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হওয়ায় এর উৎপাদন সময়ও দীর্ঘ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) মতে, চলতি বছরের শুরুতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অর্ধেকের বেশি মজুত ব্যবহার করে ফেলায় এই ক্ষেপণাস্ত্র দিতে অনীহা প্রকাশ করছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের কাছে প্যাট্রিয়ট আছে, তবে সেটি খুব বেশি নয়। আমাদের নিজেদের জন্যও এগুলো দরকার।’

কিন্তু ইউক্রেনের এই ক্ষেপণাস্ত্র জরুরি ভিত্তিতে দরকার। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মস্কো ইউক্রেনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে, যাতে গত সপ্তাহে শুধু কিয়েভেই কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন। মে মাসের শেষে জেলেনস্কি নিশ্চিত করেছিলেন, প্যাট্রিয়টের লাইসেন্সপ্রাপ্ত উৎপাদনের অনুমতি চেয়ে ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আবেদন করেছে।

সাড়ে চার বছরের যুদ্ধের পর সম্মুখসারিতে লড়াই এখন প্রায় স্থবির। কৃষ্ণসাগরে চলাচল বন্ধ এবং ইউক্রেন প্রতি রাতে রাশিয়ার ছোঁড়া শত শত ড্রোন ঠেকাতে শিখে গেছে। তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যেগুলোকে জেলেনস্কি রাশিয়ার ‘সর্বশেষ বড় সুবিধা’ বলেছেন, উচ্চ গতিতে খাড়া পথে ছুটে আসায় ঠেকানো কঠিন। এগুলোর অনেকগুলোই ইউক্রেনের দুর্বল বিমানপ্রতিরক্ষা ভেদ করে যায়।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইউক্রেন বিমানবাহিনী জানিয়েছিল, ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ‘তীব্র সংকটের’ কারণে রাশিয়ার রোববার রাতে ছোঁড়া ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটিও ভূপাতিত করা যায়নি। সেই হামলায় ২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন:

কিয়েভে অবশ্য এই ক্ষেপণাস্ত্র সেখানেই তৈরি করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ইউক্রেনীয় সামরিক বিশেষজ্ঞ ও নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ইভান স্তুপাক বিবিসিকে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইউক্রেন এমন উন্নত ও অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা রাখে না। কারিগরি ও আইনগতভাবে এটি সম্ভবত ইউরোপের ভূখণ্ডে তৈরি করা হবে বলে আমি মনে করি। এবং এই প্রক্রিয়ায় অনেক মাস লেগে যেতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি নিরাপত্তার বিষয়। পুরো ইউক্রেনের ভূখণ্ডে আমাদের কোনো নিরাপদ জায়গা নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প স্বীকার করেন, রাশিয়ায় দূরপাল্লার হামলায় সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। এসব হামলা সম্মুখসারি থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ট্রাম্প বলেন, ‘এটি উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, তবে এটি এমন এক উত্তেজনা যা শেষ পরিণতিতে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে।’ ট্রাম্পের পাশে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, মস্কোকে ‘তাদের আকাশসীমা রক্ষা করা কতটা কঠিন’ তা দেখানো এবং যুদ্ধ শেষ করতে বাধ্য করতেই রুশ শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা প্রয়োজন।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—যার সঙ্গে তার প্রায়ই কথা হয় বলে জানান—ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে একটি চুক্তি করতে চান। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রার আক্রমণ দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পরও এখন পর্যন্ত কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে আলোচনার তার প্রচেষ্টা কোনো ফল দেয়নি।

ট্রাম্প আরেকবার জেলেনস্কি ও পুতিনের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। পুতিন বারবার বলেছেন, তিনি এমন বৈঠকে বসতে রাজি, তবে সেটি হতে হবে মস্কোতে। এই আমন্ত্রণকে অনেকেই উসকানি হিসেবে দেখেছেন। বুধবার ট্রাম্প ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি রাশিয়ার রাজধানীতে যেতে প্রস্তুত কি না। জেলেনস্কি রসিকতা করে জবাব দেন, ‘এটি কঠিন। ওখানে অনেক ইউক্রেনীয় ড্রোন আছে।’ এর মাধ্যমে তিনি মস্কোয় ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলার প্রতি ইঙ্গিত করেন।

এএম