গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন; ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক সিএ পার্থ সারথী পাল, বর্তমান অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ এবং নূর ইসলাম। তাদের মধ্যে পার্থ সারথী পাল বর্তমানে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে কর্মরত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বদলির কারণে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেয়ার সময় ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ফাহরিয়া ইসলাম উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করেন।
এ সময় চেক বইয়ের কাউন্টারফয়েল (মুড়ি) এবং ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের হিসাবের মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে বিস্তারিত যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, ২৬টি চেকে টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
ঘটনা উদঘাটনের পর সোমবার ইউএনও অভিযুক্ত তিনজনকে কার্যালয়ে ডেকে এনে ফুলগাজী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
পরে চেক জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আরও পড়ুন:
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইউএনওর স্বাক্ষর নেয়ার পর চেকের মূল অঙ্কের আগে অতিরিক্ত সংখ্যা বসিয়ে টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া হতো। একই সঙ্গে টাকার বানানও পরিবর্তন করা হতো। তবে চেক বইয়ের কাউন্টারফয়েলে এসব পরিবর্তনের কোনো উল্লেখ না থাকায় হিসাব পর্যালোচনার সময় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত প্রায় এক বছর ধরে একই কৌশলে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছিল। চলতি বছরের ১ মার্চ সবশেষ এমন ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে।
এরপর মার্চ মাসেই পার্থ সারথী পাল ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে বদলি হলে এ ধরনের আর কোনো ঘটনার তথ্য মেলেনি।
এ ঘটনায় ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের সিএ আবদুল হালিম চৌধুরী সুজন বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘চেক জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসাব-সংক্রান্ত নথিপত্র, চেক এবং ব্যাংকের তথ্য যাচাইয়ের জন্য তাদের রিমান্ড আবেদন করা হবে।’




