তবে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে এবং সন্ধ্যার মধ্যেই সংযোগ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বরগুনা জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের খাজুরতলা এলাকার প্রধান সাবস্টেশনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। হঠাৎ উপকেন্দ্রের ভেতরে বিকট শব্দে ৬ নম্বর ফিডারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন লেগে যায়।
খাজুরতলা এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, রাত দশটার দিকে হঠাৎ একটা বিকট শব্দ শুনলাম। এরপর চারদিকে প্রায় ৪০ সেকেন্ডের মতো তীব্র আলোর ঝলকানি ছড়িয়ে পড়ে। উপকেন্দ্রে ছুটে এসে দেখি ভেতরে আগুন ধরে গেছে। এরপর থেকেই পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুনের স্থায়িত্ব কম হলেও এর তীব্রতায় স্টেশনের অন্যান্য ফিডার, বিভিন্ন তারের সংযোগ এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এ সাবস্টেশনের মাধ্যমেই বরগুনা সদর উপজেলার বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আকস্মিক এই বিপর্যয়ের কারণে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রায় ৬৭ হাজার গ্রাহক পুরোপুরি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হওয়াসহ বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও।
ঘটনার পর পরই পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বরগুনা জোনাল কার্যালয়ের ডিজিএম মোহাম্মদ নাজমুল হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিস্থিতি সম্পর্কে ডিজিএম মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, হঠাৎ অভ্যন্তরীণ ত্রুটির কারণে ১১ কেভি এসিআর বিস্ফোরিত হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে অনেক তার ও যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। আমরা সোমবার রাত থেকেই উদ্ধার ও মেরামতের কাজ শুরু করেছি। পুড়ে যাওয়া যন্ত্রাংশটি পটুয়াখালী থেকে জরুরি ভিত্তিতে আনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানদের কয়েকটি দল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং প্রতিটি যন্ত্রাংশ নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে আজ সন্ধ্যার মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।





