মামলা দায়েরের পর ছায়া তদন্তে নেমে হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ও মূলহোতা জনিসহ তার চার সহোদরকে (ভাই) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
আজ (সোমবার, ৬ জুলাই) বিকেলে গ্রেপ্তার চার সহোদরকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, নিহত ভাড়াটিয়া রাজিব আহমেদ রুবেল বাসার ভেতরে মাদকের আসর বসাতেন। এ কারণে বাড়িওয়ালি পারুল বেগম (৫০) ও তার সন্তানরা রুবেলকে বাসা ছেড়ে দেয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু রুবেল বাসা ছাড়তে নারাজ ছিলেন এবং জোরপূর্বক ওই বাসায় অবস্থান করছিলেন।
আরও পড়ুন:
বাসা ভাড়া এবং মাদকের আসর নিয়ে রোববার ভোর ৬টার দিকে বাড়িওয়ালি পারুল বেগম ও তার ছেলে জনির সঙ্গে রুবেলের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রুবেল ক্ষিপ্ত হয়ে পারুল বেগমকে মারধর এবং তার শ্লীলতাহানি করেন।
মাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির এ ঘটনা জানতে পেরে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পারুল বেগমের সন্তানেরা। এর জেরে সকাল ১০টার দিকে জনি ও তার চার সহোদর মিলে রুবেলকে অবরুদ্ধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর পিবিআই ময়মনসিংহের একটি দল দ্রুত অভিযানে নেমে রোববার রাতেই ঘটনার মূলহোতা জনিসহ জড়িত চার ভাইকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার চারজনই মাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির জেরে রুবেলকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
আজ বিকেলে তাদের জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। পিবিআই পুলিশ সুপার আরও জানান, মামলার এজাহারনামীয় বাকি আসামিদের এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





