চীনা কোস্ট গার্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বহর ওই এলাকায় ‘আইন প্রয়োগমূলক টহল’ চালাবে এবং চীনের যে অংশটিকে বেইজিং তাদের এখতিয়ারভুক্ত মনে করে, সেখানে টহল আরও জোরদার করা হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চীনের সার্বভৌমত্ব, সামুদ্রিক অধিকার ও স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে কোস্ট গার্ড।’ সম্প্রতি চীন সামরিক তৎপরতার পাশাপাশি কোস্ট গার্ড ব্যবহার করে তাদের ভূখণ্ডের দাবিকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, যাকে তাইওয়ান ‘ল-ফেয়ার’ বা আইনি যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করেছে।
তাইওয়ান সরকার নতুন এই টহলকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ব্যাঘাত সৃষ্টিকারী বেআইনি ক্ষমতা সম্প্রসারণ’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। তাইওয়ানের চীন বিষয়ক নীতি নির্ধারণকারী মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলের পানিসীমার ওপর চীনা কমিউনিস্টদের কোনো সার্বভৌমত্ব বা অধিকার নেই। এখানে তাদের কোনো এখতিয়ার নেই এবং তাদের কোনো সরকারি জাহাজেরও আইন প্রয়োগের ক্ষমতা নেই।’
তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, তারা চীনা দুটি জাহাজের গতিবিধি অনুসরণ করছে এবং সেগুলোকে পর্যবেক্ষণের জন্য নিজেদের দুটি জাহাজ প্রস্তুত রেখেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার সকালের হিসাব অনুযায়ী চীনা দুটি জাহাজ তাইওয়ানের হুয়ালিয়েনের পূর্ব দিকে ৫৪ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল। হুয়ালিয়েনে তাইওয়ানের একটি বড় বিমানঘাঁটি রয়েছে। তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, তারা প্রয়োজনে ‘সব ধরনের ব্যবস্থা’ নিয়ে চীনা জাহাজগুলোকে বিতাড়িত করবে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে।
এক মাসের ব্যবধানে এটি চীনের দ্বিতীয় বড় ধরনের এমন তৎপরতা, যা যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেনসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। জাপান ও ফিলিপাইন তাদের সামুদ্রিক সীমানা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার ঘোষণা দেয়ার পর চীন গত জুনে প্রথম এই ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছিল। বেইজিং এই আলোচনাকে তাইওয়ানের উপকূলে চীনের পানিসীমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করে। চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক ‘আইনি মতামত’ প্রকাশ করে জাপান ও ফিলিপাইনকে এই বিষয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনায় বসার এবং তাইওয়ানের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না রাখার আহ্বান জানায়।





