স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো কমপ্রোমাইজ নয়: জামায়াত আমির

ডা. শফিকুর রহমান
ডা. শফিকুর রহমান | ছবি: এখন টিভি
0

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এই দেশ আপনার, আমার, আমাদের সকলের। এ দেশকে আমাদেরই রক্ষা করতে হবে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কারো সঙ্গে কোনো কমপ্রোমাইজ (আপস) নয়। এ দেশের এক ইঞ্চি জায়গা কেন, একটা বালুকণার ওপরেও কাউকে পা রাখতে দেব না। প্রয়োজনে দেশপ্রেম ও ঈমানি শক্তি নিয়ে আমরা সবাই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাশে দাঁড়িয়ে যাব।

আজ (শুক্রবার, ৩ জুলাই) সকাল ১০টায় নেত্রকোণা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সীমান্ত উত্তেজনা ও বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের বিজিবির পাশাপাশি আমরা সবাই বিজিবি হয়ে ওখানে দাঁড়িয়ে যাব ইনশা আল্লাহ। বিজিবির হাতে অস্ত্র থাকবে, আর আমাদের বুকের দেশপ্রেমের অস্ত্র নিয়ে আমরা দাঁড়িয়ে যাব। বহু জায়গায় মানুষ দাঁড়িয়ে গেছে বলেই ওরা কিছু করতে পারে নাই।’

পার্শ্ববর্তী দেশের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘তারা বলে যে, তারা আমাদের বন্ধু দেশ। বন্ধু দেশ কি মানুষকে এভাবে বিব্রত ও ক্ষতিগ্রস্ত করবে? বন্ধুত্বের পরিচয় এভাবে হয় না। আমরা সকলের প্রতি বন্ধুত্বের পরিচয় দেয়ার আহ্বান জানাই। কিন্তু কেউ যদি তা না দেয়, তাহলে কি আমি গালে হাত দিয়ে বসে থাকব? দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে অনেক কিছুতে কমপ্রোমাইজ হতে পারে, কিন্তু এ দুইটা ব্যাপারে কোনো কমপ্রোমাইজ নেই।’

আরও পড়ুন:

সংসদে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সীমান্ত সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য একটা নোটিশ জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার এখনো নোটিশটা আমাদের আলোচনা করতে দিচ্ছে না। আগামী ৭ তারিখ থেকে যখন আবার সংসদ শুরু হবে, আমরা আবার চেষ্টা করব। নোটিশ এক্সেপ্ট না হলে প্রয়োজনে আমাকে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হবে। আমি চেয়েছিলাম নোটিশটা সুন্দরভাবে আসুক। দেশ ও প্রবলেম তো সবার। সংসদ থেকে একটা ঐক্যবদ্ধ আওয়াজ উঠলে সারা দুনিয়ায় মেসেজ যেত যে এই জাতি ইউনাইটেড (ঐক্যবদ্ধ)।’

মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের একটা বিল এনেছে। আমাদের দাবি নিয়ন্ত্রণ নয়, মাদক নির্মূল। নিয়ন্ত্রণের মানে হচ্ছে কিছু রেখে একটু চেপে রাখা, আমরা তা চাই না। আমরা সংসদে এ বক্তব্যই রাখব এবং তা রাখার ক্ষেত্রে কারো চোখের দিকে বা মনের দিকে তাকাব না, জাতির দিকে তাকিয়েই কথা বলব।’

আরও পড়ুন:

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে বলছেন কিশোররা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমি তো দেখি অনেক বুড়ারাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মাদকের সঙ্গে এখন শুধু কিশোর নেই, এর ব্যাপকতা কোনো বয়স মানছে না। শুধু মাদক সেবনই নয়; মাদকের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন সবগুলোই আমরা বন্ধ করতে চাই।’

এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা দিয়ে মাদকের চালান আসার বিষয়ে সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন, ‘উনার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) বাড়ির এলাকা থেকে মাদকের সবচেয়ে বড় চালান আসে। উনি জানেন না এ চালান কীভাবে আসে? কারা এর সঙ্গে জড়িত? আমরা দেখতে চাই উনার মন্ত্রণালয়ের মাদকবিরোধী ভূমিকাটা উনার বাড়ি থেকেই শুরু হোক।’

আরও পড়ুন:

সেনাবাহিনীর নতুন ব্রিগেডের নাম চার খলিফার নামে রাখার পর ভারতের উষ্মা প্রকাশের গুঞ্জন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বিশ্বের বহু জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারন্যাশনাল বা ন্যাশনাল ফিগারদের নামে নামকরণের ইতিহাস আছে। এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এ ব্যাপারে তারা কেন উষ্মা প্রকাশ করবে? তারা যদি উষ্মা প্রকাশ করে, তাহলে তাদের উষ্মার ওপরে আমরা গরম শ্বাস ছেড়ে দেব।’

নেত্রকোণা জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা, জেলা জামায়াতে ইসলামির নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুর রহমান, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন এবং পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির আবুল হোসেন তালুকদারসহ স্থানীয় নেতারা।

এসএস