রাত গভীর হোক কিংবা ভোরের আলো—নির্জন সড়ক, গলি কিংবা গণপরিবহনের আশপাশে ওত পেতে থাকে ছিনতাইকারী চক্র। সুযোগ বুঝেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হামলা চালিয়ে টাকা, মোবাইল, মোটরসাইকেল বা অন্যান্য মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় নতুন কেউ আসলেই তারা হয়ে যায় এসব ছিনতাইকারী চক্রের সহজ লক্ষ্যবস্তু।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই ছুরি বা ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করা হয়। কেউ বাধা দিতে গেলে শারীরিক হামলার ঘটনাও ঘটে। এতে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ।
নাগরিকদের অভিযোগ ও বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় রাজধানীতে শতাধিক স্থানে সক্রিয় রয়েছে ছিনতাইকারী চক্র। তবে, মোহাম্মদপুর, গাবতলী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকা, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা, যাত্রাবাড়ীর কিছু নির্জন সড়ক,কমলাপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা, মোহাখালী বাস টার্মিনাল ও আশপাশ, ফার্মগেটর কিছু ফুটওভার ব্রিজ ও ব্যস্ত মোড়, গুলিস্তান ও আশপাশের জনবহুল এলাকা, উত্তরার জনবহুল এলাকায় গড়ে উঠেছে ছিনতাইকারীদের এই চক্র।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। উদ্ধার করা হচ্ছে ছিনতাই হওয়া বিভিন্ন সামগ্রীও। তবে গ্রেপ্তারের পর কয়েকদিনের মধ্যেই জামিন পেয়ে যাচ্ছেন তারা। এছাড়া নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ায় কিছু এলাকায় এই অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা এখনও চ্যালেঞ্জ।
ডিএমপির ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন ডিআইজি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিনিয়ত প্রচুর এরকম ছিনতাইকারী ধরছি, চালান হচ্ছে আবার কয়েকদিন পরে বেরও হয়ে আসছে। এরপর আবার তারা একই কাজ করতেছে। আমাদের বেকারত্ব, সুশিক্ষা না থাকা, এগুলোই মূল সমস্যা।’
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সিসিটিভির আওতা বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার, দ্রুত বিচার এবং জনসচেতনতা—এসব উদ্যোগ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা গেলে ছিনতাইয়ের ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ মো. তৌহিদুল হক বলেন, ‘মাঠের বাস্তবতা যদি এফআইআরে পরিপূর্ণভাবে লিখতো, তাহলে আদালতের এত দ্রুত জামিন দেয়ার কথা নয়। কারণ, মামলার বিবরণটা এমনভাবে লেখা হয় অধিকাংশ ঘটনায়, যাতে সে দ্রুত জামিন পেয়ে যায়। এই মামলার এফআইআরটা জামিন পাওয়ার উপযোগী করে লেখা—এই পুরো ব্যাপারটার সঙ্গে একটা সিন্ডিকেট কাজ করছে।’
শুধু অভিযান নয়, অপরাধের কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও সতর্ক থাকতে হবে বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।





