পশ্চিম আফ্রিকায় ভারী বৃষ্টি ও বন্যা; আইভরি কোস্টে নিহত ৫৯

কোত দিভোয়ারে টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত সড়ক পার হচ্ছেন মানুষ
কোত দিভোয়ারে টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত সড়ক পার হচ্ছেন মানুষ | ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
0

পশ্চিম আফ্রিকাজুড়ে গত মে মাস থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যায় আইভরি কোস্টে অন্তত ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী আমাদউ কুলিবালি আবিদজানে এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই তথ্য জানান। মে থেকে জুলাই পর্যন্ত চলা এই বর্ষা মৌসুমে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেশী দেশ ঘানায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার সেখান থেকে ৪শ’র বেশি মানুষকে উদ্ধার করেছে দেশটির ফায়ার সার্ভিস। ঘানার প্রেসিডেন্ট জন মাহামা জানিয়েছেন, এবার মাত্র এক দিনে ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের দ্বিগুণেরও বেশি। রাজধানী আক্রা ও পার্শ্ববর্তী শহর টেমাতে বহু বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে।

কর্তৃপক্ষ ও আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পশ্চিম আফ্রিকায় চরম আবহাওয়ার প্রকোপ এবং বন্যার তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে আফ্রিকার ভূমিকা খুব সামান্য হলেও এই মহাদেশটি চরম আবহাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবকেও এই দুর্যোগের জন্য দায়ী করা হচ্ছে।

বন্যা কবলিত এলাকাগুলো আকাশপথে পরিদর্শনের পর ঘানার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে মানুষ যত্রতত্র ভবন নির্মাণ করছে, যা পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিচ্ছে।’ এছাড়া ড্রেনগুলোতে ময়লা ফেলার কারণেও পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এদিকে বেনিন, টোগো ও নাইজেরিয়াতেও বন্যা হানা দিয়েছে। নাইজেরিয়ার লাগোসে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র তলিয়ে যাওয়ায় বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নাইজেরিয়ার আবহাওয়া সংস্থা চলতি বছর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।

এএম