ধান সংগ্রহে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি, অসন্তুষ্ট মিল মালিকরা

ধান কাটায় ব্যস্ত চাষিরা
ধান কাটায় ব্যস্ত চাষিরা | ছবি: এখন টিভি
0

বোরো মৌসুমে ধান চাল সংগ্রহ অভিযান চলছে। ৩৬ টাকা কেজিতে ধান এবং ৪৯ টাকা কেজিতে সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করছে সরকার। গত বছরগুলো তুলনায় এবার ধান সংগ্রহের গতি আশাব্যঞ্জক হলেও প্রকৃত কৃষক ধান বিক্রিতে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। চাল সংগ্রহ সাড়া মিললেও কর আরোপ করায় কিছুটা অসন্তুষ্ট মিল মালিকরা।

চলতি বছরের মে মাস থেকে ধান চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করে সরকার। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান এবং মিল মালিকদের কাছে চাল সংগ্রহ চলছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ধানচাষির তালিকা সরবরাহ করলেও খাদ্য বিভাগে প্রকৃত চাষিদের তালিকা নিয়ে রয়েছে নানান অভিযোগ। কৃষি বিভাগের সরবরাহকৃত তালিকায় কৃষির সাথে জড়িত নয় এমন নামও রয়েছে। মধ্য স্বত্বভোগীদের যোগসাজশের অভিযোগ কৃষক নেতার।

একজন কৃষকনেতা বলেন, ‘সরাসরি কৃষকের যে তালিকা থাকে, সে তালিকা ধরে তাদেরকে স্লিপটা সরবরাহ করা।’

খাদ্য সংগ্রহে বরাবরই উত্তরাঞ্চলকে প্রাধান্য দেয়া হয়ে থাকে। এবার চাল সরবরাহকারী মিল মালিকদের অভিযোগ, ধানের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হলেও সরকার চাল ক্রয়ে বাড়তি দাম দেয়নি। এরপর চাল বিক্রির উপর মিল মালিকদের কর আরোপ করায় তাদের লাভের অঙ্ক একেবারে থাকছে না। কিছুটা বাধ্য হয়েই তারা চাল দিচ্ছেন।

বগুড়া চালকল মালিক সমিতি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ধানের দামের আনুপাতিক হারে চাউলের দাম হয় নাই। চাউলের দাম ৩৬ টাকা ধান হলে চাউলের দাম ৫২ টাকা হওয়া উচিত ছিলো। কিন্তু সরকার এ নীতিমালা ফলো করে নাই। লক্ষ্য করছি এর উপর আমাদের উৎস কর দিতে হচ্ছে। উৎস কর আগে ছিলো না। উৎস কর আগে ছিলো এ উৎস কর যদি না থাকতো তাহলে মোটামুটি একটা আমরা পরিস্থিতিতে থাকতাম।’

দিনাজপুর অটোমেটিক হাসকিং চাউলকল মালিক সমিতির সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম পাটোয়ারী মোহন বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রাটা যদি আরও বৃদ্ধি করা যেত, প্রকিউরমেন্ট যদি আরও চালটা বেশি সংগ্রহ করত, তাহলে আমি মনে করি সরকারের যে খাদ্য মজুত এবং খাদ্য নিরাপত্তার জায়গাটা আরও ভালো হতো। সরকারের যে ট্যাক্স নীতি ইদানীং যেটা করেছে, যে টার্নওভারের উপর ট্যাক্স ১ শতাংশ, যেটা আমি মনে করি অনেক বেশি। কারণ ১০০ টাকায় যদি ১ টাকা ট্যাক্স দেয় তাহলে কী লাভ ১০০ টাকায় ১০ টাকা, যেটা অবাস্তব।’

বগুড়ায় জুন পর্যন্ত ৮৭ ভাগ ধান ও ৫৫ ভাগ চাল সংগ্রহ হয়েছে। কর কর্তন এবং চালের দাম কম দেয়ার ব্যাপারে অভিযোগ থাকলেও ধান চাল সংগ্রহ অভিযান পুরোপুরি অর্জিত হবে। ধান সংগ্রহের ব্যাপারে কিছু অনিয়ম থাকলে ভবিষ্যতে সতর্কতা অবলম্বনের আশ্বাস জেলা খাদ্য কর্মকর্তার।

বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, ‘সরকার এ উৎস কর যে কাটবে এটা মাথায় রেখেই মূল্য দিয়েছে এবং এ মূল্যতে তো আমি দেখছি না যে যারা মিলাদ তাদের কোনো এখানে এবার যে বাজার দর তাতে তারা কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তাদের যে দাবিদাওয়া থাকলে অবশ্যই আমরা সেটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবো।’

এ পর্যন্ত উত্তরের ১৬ জেলায় ৮০ ভাগ ধান এবং ৬৫ ভাগ চাল সংগ্রহ হয়েছে। ধান,চাল সংগ্রহ অভিযান চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।

জেআর