২০২৪ সালের জলাইয়ের দাবিটা ছিলো কেবলই মেধার মূল্যায়নের। সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটার রাহুগ্রাস থেকে মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমে আসে সাধারণ মানুষ। তারা কী জানত ভয়ংকর অধ্যায় আর এক গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস অপেক্ষা করছে সামনে।
কোটা না মেধা স্লোগানে ধারাবাহিক আন্দোলন চলে ১ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত। আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নেয় ১৫ জুলাই ছাত্রলীগের হামলার মধ্য দিয়ে। এর পর ১৬ জুলাই। রংপুরের পিচঢালা পথ সাক্ষী হয় এই আন্দোলনের মহাকাব্যিক সাহসের। দুই হাত বাড়িয়ে বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে আবু সাঈদ অনুপ্রেরণা জোগায় পুরো জাতিকে। ধারাবাহিক আন্দোলন চলে জুলাই পেরিয়ে আগস্ট পর্যন্ত। ৩ আগস্ট শহিদ মিনারের জনসমুদ্র থেকে আসে ৯ থেকে ১ দফার ঘোষণা— শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ।
২০২৪ সালের ৩ আগস্ট নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সেই এক দফার উদ্দেশ্যে আমাদের এক দফাটি হলো, শেখ হাসিনাসহ এই সরকারের পতন এবং ফ্যাসিবাদের বিলোপ।’
আরও পড়ুন
আর ঘোষণাই পতন ঘটায় আওয়ামী সরকারের। প্রাণ যায় অন্তত ১৫০০ মানুষের।
বিভীষিকাময় জুলাইয়ের বয়স আজ বছর দুই। তবে কতটা অর্জন হলো জুলাইয়ের চাওয়া পাওয়া। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বছরে দিনের শুরুতেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীর রায়েরবাজারে গণ কবরে জুলাইয়ের সামনের সারির নেতারা। শহিদদের স্মরণ করে যোদ্ধারা বলছেন, দুই বছর পেরিয়ে গেলও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি জুলাইয়ের আকাঙাখা। গণহত্যার বিচার আর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে চলছে গড়িমসি।
এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘হাসানুল হক ইনু, যিনি জাসদের সভাপতি ছিলেন, তাকে যে ১০ বছর করে তিনটি মামলায় সাজা দিয়েছে, এটা এনাফ নয়, এটা যথেষ্ট নয়। আমরা—আমাদের আবেদন থাকবে রাষ্ট্রপক্ষ যাতে এটা আপিল করেন এবং আমরা তাঁর কঠোর থেকে কঠোর বিচার প্রত্যাশা করতেছি।’
আরও পড়ুন
আহত যোদ্ধাদের পুনর্বাসন ও আওয়ামী লীগের দোষীদের দ্রুত ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবি জানান জুলাইয়ের অন্যতম সমন্বয়ক আকতার হোসেন।
রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ‘অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন এক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু করতে চেয়েছিলাম। সেই বাংলাদেশ দুই বছর পরে এসেও আমরা এখনো পর্যন্ত পুরোপুরি অর্জন করতে পারি নাই। ভারত সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে এসে গণ-অভ্যুত্থানের সময়কালে যে গণহত্যা সংগঠিত করেছিল শেখ হাসিনা, তার দায়ে যে ফাঁসির রায় হয়েছে শেখ হাসিনার, সেটা যেন কার্যকর করা হয়।’
এদিকে জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের কণ্ঠেও প্রকাশ পায় ক্ষোভ ও হতাশা। যোদ্ধাদের পুনর্বাসন ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তারা।
জুলাইয়ে শহিদ ও পরিবারের একজন বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে বলি, যে আপনারা যত দ্রুত সম্ভব আমাদের ভাইদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করুন। আসলে বিচার পাবো না, তাও বলে গেলাম।’
জুলাই উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এনসিপি।





