প্রশ্ন ফাঁসকাণ্ডে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা মোদির

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি | ছবি: সংগৃহীত
0

প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার আদালত (ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট) গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে চলা তরুণদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের বিষয়ে এটিই তার প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সরকারি চিকিৎসা কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে নয়াদিল্লিজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি সপ্তাহে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন চালানো হয়। বিক্ষোভকারীরা এখন পার্লামেন্ট স্ট্রিট দখল করে রেখেছেন। তারা তিন দিন ধরে সেখানে অবস্থান নিয়ে আছেন। তাদের অনেকেই পার্লামেন্ট হাউসকে ভারতের রাজধানীর কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকা কনট প্লেসের সঙ্গে যুক্ত করা এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর তাঁবু গেড়ে রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার মোদি এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, ‘আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই। প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ যারা ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।’

এই বিক্ষোভের আয়োজন করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। এটি মে মাসে অনলাইনে গড়ে ওঠা একটি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন। এটি এখন একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে পরীক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে।

নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভস্থলে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দিপকে বলেন, বিক্ষোভকে বিতর্কিত করতে বাইরে থেকে লোক পাঠিয়ে সাম্প্রতিক সহিংসতায় উসকানি দেয়া হয়েছে। এএনআইকে দিপকে বলেন, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বিক্ষোভ ব্যাহত করতে বাইরে থেকে লোক পাঠানো হচ্ছে। আমরা এক মাস ধরে এখানে বসে আছি। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে উত্তেজিত করতে বাইরে থেকে গুন্ডা পাঠানো হচ্ছে।’

পরে এক্সে দেয়া এক পোস্টে দিপকে বলেন, মোদিকে দেখে মনে হচ্ছে ‘তিনি পুরো দিল্লি অচল করে দিতে প্রস্তুত, কিন্তু ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে রাজি নন।’

সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঁকা মোদির এই ঘোষণাকে অন্তর্নিহিত সমস্যা সমাধানের জন্য অপ্রতুল বলে উল্লেখ করেছেন। যন্তর মন্তরে দেয়া এক বিবৃতিতে রাঁকা বলেন, ‘দ্রুত বিচার আদালতের ঘোষণা কোনো প্রকৃত সমাধান নয়। এটি নিছকই মনোযোগ সরানোর কৌশল।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভারতে দ্রুত বিচার আদালত ছিল না বলে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে না। এটি হচ্ছে কারণ, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সম্পূর্ণ ব্যর্থ।’

সিজেপির অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে—প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার এবং সম্প্রতি পরীক্ষা বাতিলের পর আত্মহত্যা করা অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থীর প্রতিটি পরিবারকে ১ কোটি রুপি (১ লাখ ২০ হাজার ডলার) আর্থিক সহায়তা।

নয়াদিল্লি থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক নীহা পুনিয়া বলেন, ‘সোমবার আমরা দেখেছি এই গোষ্ঠী পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছিল। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আমরা নজিরবিহীন দৃশ্য দেখেছি, লাখো মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছিল।’ বৃহস্পতিবার তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক ঘণ্টায় আমরা শুনেছি, কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভস্থল ও আশপাশের ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে। সেখানে থাকা মানুষজন বলছেন, সোমবার পুলিশের অভিযানের পর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার তাদের সংকল্প আরও দৃঢ় হয়েছে।’

সোমবার পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রা করা বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে ও লাঠিপেটা করে পুলিশ। বুধবার মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও পাটনার মতো বড় শহরগুলোতেও ছোট আকারে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

উচ্চ বেকারত্ব এবং বারবার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ভারতের তরুণদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রতিফলন সিজেপির দ্রুত উত্থান। এই আন্দোলন বিরোধী নেতাদের জন্যও মোদি ও তার ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) চ্যালেঞ্জ জানানোর একটি বড় সুযোগ এনে দিয়েছে।

এএম