সংঘাত কমতেই দক্ষিণ লেবাননে ফিরছেন ৪ লাখ মানুষ

দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরছেন বাস্তুচ্যুত মানুষেরা
দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরছেন বাস্তুচ্যুত মানুষেরা | ছবি: রয়টার্স
0

ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার চার মাসব্যাপী সংঘাত কিছুটা থিতিয়ে আসায় দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ৪ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ তাদের ঘরবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। লেবাননের সামাজিক বিষয়কমন্ত্রী হানিন এল সায়েদ মঙ্গলবার জানিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহে আরও বহু মানুষ নিজ এলাকায় ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। হানিন এল সায়েদ জানান, বাস্তুচ্যুতদের প্রায় ৪০ শতাংশ ইতিমধ্যে তাদের শহর ও গ্রামে ফিরে গেছেন। এর ফলে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান করা মানুষের সংখ্যা ৩৭ হাজার থেকে কমে ১৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। তবে যাদের ঘরবাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, তাদের জন্য ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্র এখনো খোলা রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী রয়টার্সকে বলেন, ‘যারা ফিরছেন তারা অন্তত ন্যূনতম কিছু পাওয়ার আশায় ফিরছেন। কিন্তু যারা এখনো ফিরতে পারেননি, তাদের পরিস্থিতি অনেক বেশি কঠিন।’ কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঘরবাড়ি হারিয়ে স্থায়ীভাবে গৃহহীন হয়ে পড়া পরিবারের সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব হবে।

ফিরে আসা মানুষদের জন্য লড়াইটা মোটেও সহজ নয়। অনেকেই ফিরে দেখছেন তাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, বিদ্যুৎ ও পানির তীব্র সংকট এবং উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি হিসেবে এই সংঘাতের ফলে লেবাননের প্রায় ৯০ হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো ও ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে কয়েক বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে যা বর্তমানে সরকারের কাছে নেই।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে একটি রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ সাপেক্ষে দখলকৃত এলাকাগুলোতে লেবাননের সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং নির্দিষ্ট ‘পাইলট জোনের’ মাধ্যমে পুনর্গঠন কাজ শুরু করা হবে। তবে প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননের মানুষ তাদের ভূমির টানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

এএম