টাঙ্গাইলে টাকা ধার না দেয়ায় গৃহবধূকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

পুলিশি হেফাজতে গ্রেপ্তার আসামিরা
পুলিশি হেফাজতে গ্রেপ্তার আসামিরা | ছবি: এখন টিভি
0

টাঙ্গাইলে টাকা ধার দিতে অস্বীকার করায় এক গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন ও স্বর্ণব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে পুলিশের কাছে আসামি মোশারফ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন।

আজ (মঙ্গলবার, ৩০ জুন) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ওসি রুহুল আমিন।

নাজমা আলমকে হত্যার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ অভিযুক্ত মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে গ্রেপ্তার করে। মোশারফ দেলদুয়ারের মৃত মোতালেব সরকারের ছেলে। এসময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের অংশ, নগদ টাকা এবং ঘটনার আলামত উদ্ধার করা হয়।

আসামি মোশারফ পুলিশের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে জানান, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক যাবৎ মোশারফ টাঙ্গাইল শহরে বসবাস করছেন এবং একটি মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছেন। দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে মোশারফের সঙ্গে গৃহবধু নাজমা আলম ও তার পরিবারের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাসার চাবি ও সিসি ক্যামেরার পাসওয়ার্ডও দেয়া ছিলো মোশারফের কাছে।

মোশারফ জানান, সম্প্রতি তিনি ১৫ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হলে নাজমার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নাজমাকে হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে খাটের নিচ থেকে ২৯ হাজার টাকা নিয়ে চলে যান তিনি।

আরও পড়ুন:

ওসি রুহুল আমিন জানান, এই ধারের টাকা না দেয়ার কারণে নাজমা আলমকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর গলার চেইন, হাতের বালাও নিয়ে যান মোশারফ। এছাড়াও তাদের বাসার দু’টি হাতুরির মধ্যে একটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও তিনি স্বীকার করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সোর্সের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছি। প্রথমে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় হত্যাকারী মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোশারফ নাজমাকে হত্যা করে এবং সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। পরবর্তীতে মোশারফ স্বর্ণসহ হাতুড়ি ও সিসি ক্যামেরার ডিভিডি সঙ্গে করে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার দুপুরে আসামিদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়।’

উল্লেখ্য, গত রোববার (২৮ জুন) সকালে গৃহবধূ নাজমা আলমকে নিজ বাড়িতে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

এসএইচ