ইউক্রেনের প্রস্তাব নাকচ; যুদ্ধবিরতিতে অনাগ্রহী পুতিন

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন | ছবি: রয়টার্স
0

ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি করতে কিয়েভের প্রস্তাবিত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সীমিতকরণের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রস্তাবকে অকার্যকর আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখান করেন। বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এ মনোভাব স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় তিনি বর্তমানে আলোচনার টেবিলে বসতে আগ্রহী নন। উল্টো, তিনি সামরিক অভিযান জোরদারের মাধ্যমে নিজের অবস্থান সুসংহত করতে চাইছেন বলেও মত তাদের।

মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা নিরসনে সম্প্রতি একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে ইউক্রেন। যেখানে বলা হয়—দুই পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডের গভীরে অবস্থিত সামরিক স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা বন্ধ করবে। পাশাপাাশি সামরিক সংঘাতকে খেরসন, জাপোরিঝিয়া, দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক—এ চারটি অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে।

কিন্তু পুতিন এ প্রস্তাবকে কৌশলগত পদক্ষেপ আখ্যা দিয়ে তা নাকচ করে দেন। বলেন, ইউক্রেনের এ আবেদন মূলত ফ্রন্টলাইনে তাদের ওপর চাপ কমাতে করা হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্টের মতে, ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীতে জনবলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং তা থেকে পরিত্রাণ পেতেই এ প্রস্তাব।

আরও পড়ুন

এখন প্রশ্ন হলো, ইউক্রেন যখন যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজছে, তখন পুতিন কেন এ প্রস্তাব নাকচ করলেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, দূরপাল্লার হামলার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সক্ষমতা ইউক্রেনের তুলনায় অনেক বেশি। পুতিন এই সুবিধা ধরে রাখতে চান। আর এ বিষয়ে কোনো আপসে যেতে চান না তিনি। কারণ মস্কো এটিকে ন্যাটোর বিরুদ্ধে প্রধান অস্ত্র হিসেবে দেখে। মূলত, ইউক্রেন যখন রাশিয়ার গভীরে হামলার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তখন পুতিনের কাছে এ দূরপাল্লার সক্ষমতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অবশ্য দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সীমিত করতে পুতিনের এ প্রত্যাখ্যান স্পষ্ট প্রমাণ যে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ শেষ করতে আলোচনায় বসতে নারাজ। অর্থাৎ পুতিন যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করতে চান, আলোচনার টেবিলে নয়।

সার্বিকভাবে, ইউক্রেনের দেয়া এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে পুতিন যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সামরিক অভিযান আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে ইউক্রেনও তাদের ড্রোন হামলা জোরদার করছে। এমন পরিস্থিতিতে আপাতত স্থবির হয়ে পড়েছে শান্তি আলোচনা। এতে আগামী দিনে যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত ও রক্তক্ষয়ী হওয়ার আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জেআর