তাড়াইলে নরসুন্দা নদীর তীব্র ভাঙন, হুমকিতে বরুহা গ্রাম

নদী ভাঙনে হতাশ স্থানীয়রা
নদী ভাঙনে হতাশ স্থানীয়রা | ছবি: এখন টিভি
0

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বরুহা গ্রামে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে নরসুন্দা নদীর ভাঙন। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও আবাদি জমি। ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।

তাড়াইল উপজেলার বরুহা গ্রামের মানুষের কাছে এখন নরসুন্দা নদী শুধু একটি নদী নয়, যেন প্রতিদিন একটু একটু করে সবকিছু গিলে খাওয়া এক ভয়াল দুঃস্বপ্ন। গ্রামবাসীর ঘুম ভাঙে নদীর গর্জনে, আর দিন শেষ হয় নতুন করে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে।

একদিকে নদীর অব্যাহত ভাঙন, অন্যদিকে শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষার চেষ্টায় মরিয়া। বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা বসতভিটা, আবাদি জমি আর জীবনের সঞ্চয় একে একে তলিয়ে যাচ্ছে নদীগর্ভে।

এলাকাবাসীরা জানান, এখন অনেক লোক ঘরবাড়ি ছাড়া আছে। থাকার মতো ব্যবস্থা নাই তিন-চারশো পরিবারের। নদী ভাঙতে ভাঙতে সব নিয়ে গেছে।

আরও পড়ুন

উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের বরুহা গ্রামের সওদাগরপাড়া থেকে রাজঘাট পর্যন্ত নরসুন্দা নদীর তীর ঘেঁষে প্রায় তিন থেকে চারশো পরিবারের বাস। নদীর অব্যাহত ভাঙনে প্রতিদিনই ছোট হয়ে আসছে তাদের বসবাসের জায়গা। এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বহু বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। অনেক পরিবার নিজেদের শেষ সম্বলটুকু সরিয়ে নিতে ব্যস্ত।

গ্রামবাসীরা জানান, সব পরিবার অন্যান্য জায়গায় চলে গেছে। যদি সরকার একটু সুদৃষ্টি, সুনজর দেয়, তাহলে এখানে বসবাস করার মতো অবস্থা থাকবে বলেন তারা।

নদীভাঙনের কারণে এরই মধ্যে এলাকা ছেড়ে কেউ উঠেছেন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে, আবার কারো ঠাঁই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। এসব মানুষেরা ভিটেমাটি হারানোর পাশাপাশি কাজের সুযোগও কমে যাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। এদিকে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘এই ভাঙনের বিষয়ে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এরই মধ্যেই যোগাযোগ করেছি। আশা করা যায় আমরা অতি শীঘ্রই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশনা পাবো এবং তদনুসারেই আমরা ভাঙন রোধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

নরসুন্দার ভাঙন থামছে না। প্রতিদিনই নদীর কাছে হেরে যাচ্ছে মানুষের স্বপ্ন। ক্ষতিগ্রস্তদের একটাই দাবি, আর আশ্বাস নয়, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে দ্রুত রক্ষা করা হোক তাদের শেষ আশ্রয়টুকু।

জেআর