মিরপুরে পানির সংকট বাড়াচ্ছে শঙ্কা

মিরপুরে পানির সংকটে ভোগান্তিতে স্থানীয়রা
মিরপুরে পানির সংকটে ভোগান্তিতে স্থানীয়রা | ছবি: এখন টিভি
0

একমাস ধরে পানির তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত মিরপুরের কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয়দের দাবি, সংকট সমাধান না করে গাড়িতে করে পানি বিক্রি করছে ওয়াসা। অন্যদিকে ওয়াসা বলছে, চাহিদা অনুযায়ী পানি সরবরাহ করতে পারছে না তারা। এ সংকট কাটাতে উত্তোলন সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ নতুন নলকূপ স্থাপনে ওয়াসাকে জায়গা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। আর নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, মিরপুরের জনসংখ্যার সাথে পরিকল্পনার ভারসাম্য আনা জরুরি। তা-না হলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও বৃদ্ধি পাবে।

কূপে নেই পানি, নেই ওয়াসার লাইনেও। নিচে নেমে গেছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। এমন অবস্থায় পানির সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়ার বাসিন্দারা। রান্না, গোসল, খাওয়ার পানি সংগ্রহ এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম অনেকটা স্থবির তাদের জীবন। পীরবাগের নাসির গার্ডেন গলির প্রায় ৫শ পরিবার গেলো দুই সপ্তাহ একই সংকটে ভুগছেন।

স্থানীয়রা জানান, কিনে আনতে চাইলে সেটাও সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া দীর্ঘ সময়ের লাইনে দাঁড়ানো ভোগান্তির পরও পানি পেতে বেগ পেতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাশাপাশি দুটি পানির পাম্প থাকার পরও পানি পাচ্ছেন না তারা। অথচ ওয়াসা গাড়িতে করে পানি বিক্রি করছে। তবে গাড়ির ওই পানি পেতেও আগের দিন সিরিয়াল দিতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে বিকল্প উৎস থেকে বাড়তি খরচে পানি সংগ্রহ করছেন কেউ কেউ।

পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় পানির পাম্পের হাউজ খননের কাজ চলমান। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করারও তাগাদা রয়েছে প্রকৌশলীদের।

প্রকল্প প্রকৌশলী জানান, এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কাজ চলছে এবং যত দ্রুত সম্ভব এ কাজ শেষ করার চেষ্টা তাদের।

আরও পড়ুন:

ওয়াসার মিরপুর জোন জানায়, তাদের অধীনে ১৮০টি গভীর নলকূপ সচল রয়েছে। সংযোগ আছে ৪২ হাজার বাসায়। গভীর নলকূপ ও সাভারের ভাকুর্তা থেকেও পানির জোগান দেয়া হচ্ছে এসব এলাকায়। তবে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৮ হাজার লিটার পানির চাহিদা থাকলে গরমের মৌসুমে পানির সংকট তৈরি হয়।

ঢাকা ওয়াসা মড্স জোন-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘শীতকালে এই অভিযোগ নিয়ে আমার অফিসে কেউ কখনোই আসেনি। কারণ, তখন কনজামশন কম, এখন যেহেতু হিট ফ্লো চলছে, মানুষের কনজামশন বেশি। যেহেতু কূপগুলো অনেক পুরাতন, আমাদের পাম্পগুলো নতুন হলেও, কূপের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে পানি এক্সট্রাকশনের কারণে পানি এখন নেই। এখানে নতুন একটি কূপ বা টিউবওয়েল বসবে। এই কাজ যদি শেষ হয়ে যায়, তাহলে এলাকায় আর পানির ক্রাইসিস থাকবে না।’

ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের পানির সংকট নিরসনে ঢাকা ওয়াসাকে জায়গা ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পাম্পের অভাবে জনগণ কষ্ট করবে, পানি পাবে না—সেটা তো হতে পারে না। সেজন্য একটু আগে আমি একটি পাম্পের জন্য জায়গার অনুমোদন দিয়ে আসছি। অর্থাৎ সিটি করপোরেশনের জায়গা ব্যবহারের জন্য আমি ওয়াসাকে জায়গার অনুমোদন দিয়েছি। বাকি কাজটা ওরাই করবে।’

অপরদিকে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, মেট্রোরেলের কারণে মিরপুর ও আশেপাশের এলাকায় বসতি বাড়লেও পানির সরবরাহ বাড়েনি। পরিকল্পনার সাথে জনসংখ্যার ভারসাম্য ঠিক রাখার পাশাপাশি এই অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের পরামর্শও দিচ্ছেন তারা।

নগর পরিকল্পনাবিদরা অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘এই সংকটের একটা বড় কারণ হচ্ছে এখানকার পপুলেশন যে বাড়ছে, এটার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আর কত মানুষ আপনি মিরপুর এলাকায় রাখবেন? কোনো সমীকরণ কাজ করছে না, কারণ সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়ন বা নিয়ন্ত্রণে কোনো উদ্যোগ নেই। উন্নয়ন-নিয়ন্ত্রণ না হলে, আরও বেশি মানুষ আসবে এবং দেখা যাবে, ভবিষ্যতে মিরপুরে পানির সংকট আরও বাড়তে পারে।’

কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়ায় ৪ হাজার বাসায় ওয়াসার পানির সংযোগ রয়েছে। তবে সংকট রয়েছে ১৫-২০টি সংযোগে।

এসএইচ