গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৩ পুলিশ সদস্য নিহত

মধ্য গাজার সালাহ আল-দিন সড়কে একটি পুড়ে যাওয়া গাড়ির ধ্বংসাবশেষ
মধ্য গাজার সালাহ আল-দিন সড়কে একটি পুড়ে যাওয়া গাড়ির ধ্বংসাবশেষ | ছবি: আল জাজিরা
0

গাজা উপত্যকার মধ্যাঞ্চলে একটি গাড়িতে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় ৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের স্বরাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল (শুক্রবার, ২৬ জুন) দেইর আল-বালাহ’র মাঘাজি শরণার্থী শিবিরের প্রবেশপথে এই হামলা চালানো হয় এবং নিহতরা সবাই পুলিশ সদস্য ছিলেন।

টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক বোমাবর্ষণ’ বলে অভিহিত করেছে। নিহতরা হলেন—ক্যাপ্টেন মনসুর সামি শাহতুত, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ খালেদ নফাল এবং ফার্স্ট সার্জেন্ট মাহদি নাদের জাবর। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সালাহ আল-দিন সড়কে সিভিল পুলিশের গাড়িটি লক্ষ্য করে ইসরাইলি ড্রোন থেকে অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এতে গাড়িটিতে আগুন ধরে যায় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে। মরদেহগুলো দেইর আল-বালাহ’র আল-আকসা মার্টিয়ার্স হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলছে, সিভিল পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা গাজা উপত্যকায় বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দেয়ার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও যুদ্ধবিরতি চুক্তির জামিনদার দেশগুলোর প্রতি ইসরাইলের এই হামলা বন্ধে চাপ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যুক্তরাষ্ট্র-ঘোষিত ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর থাকলেও ইসরাইলি বাহিনীর হামলা ও চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ৩১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং দ্বিতীয় ধাপের প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হামাসের একটি প্রতিনিধিদলের কায়রো সফরের কথা রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইল ক্রমাগত মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করছে এবং নতুন নতুন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে, যা যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এএম