মাদ্রাসা শিক্ষকদের বকেয়া বেতন নিয়ে সুখবর, টাকা মিলবে যেদিন

মাদ্রাসা শিক্ষক
মাদ্রাসা শিক্ষক | ছবি: এখন টিভি
1

বাজেট বা প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলা জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তির খবর পেলেন দেশের বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা। আগামী জুলাই মাসেই তারা মে মাসের বকেয়া বেতন হাতে পাবেন। বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে ঢাকা, ময়মনসিংহ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে মন্ত্রী মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন পরিশোধের সর্বশেষ আপডেট (Salary payment latest update) এবং বকেয়া অর্থ ছাড়ের বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন:

নতুন ১৭ হাজার শিক্ষকের বাজেট জটিলতা ও বর্তমান সমাধান (Budget allocation for new madrasah teachers)

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, সম্প্রতি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (NTRCA)-এর মাধ্যমে মাদ্রাসাগুলোতে প্রায় ১৭ হাজার নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের বেতনের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ (Budget allocation for salary) পূর্বে রাখা হয়নি। যার ফলে বিগত কয়েক মাস ধরে বেতন পরিশোধে তীব্র জটিলতা ও স্থবিরতা তৈরি হয়।

তিনি আরও জানান, এই সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ (100 crore taka allocation) পাওয়া গেছে। এই অর্থ ছাড়ের ফলে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া কাটার পথ সুগম হলো।

আরও পড়ুন:

জুলাইয়ে কারা পাবেন মে মাসের বকেয়া বেতন? (Who will get arrear salary in July)

মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে দ্রুততম সময়ে বেতন প্রদান শুরু হবে। তবে ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার কারণে প্রথম ধাপে সবাই একসাথে টাকা পাবেন না।

প্রথম ধাপ: মাদ্রাসা শিক্ষকদের মধ্যে যারা জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন (Salary through Janata Bank) গ্রহণ করে থাকেন, তারা আগামী জুলাই মাসের শুরুতেই মে মাসের বকেয়া বেতন পেয়ে যাবেন।

দ্বিতীয় ধাপ: অন্যান্য ব্যাংকের মাধ্যমে যারা ইএফটি (EFT) বা সরকারি অনুদানের অংশ (MPO) গ্রহণ করেন, তাদের অ্যাকাউন্টে পর্যায়ক্রমে বকেয়া বেতন পরিশোধ (Arrear salary payment step by step) করা হবে। কোনো শিক্ষকই যেন বেতন থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি (HSC exam preparation under Madrasah Board)

বকেয়া বেতনের সুখবরের পাশাপাশি কেন্দ্র সচিবদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী আসন্ন পরীক্ষা সুচারুভাবে সম্পন্ন করার কড়া নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডসহ (Madrasah Education Board) কারিগরি ও সাধারণ বোর্ডের পরীক্ষাগুলোতে যেন কোনো ধরণের অনিয়ম বা প্রশ্ন ফাঁসের গুঞ্জন না ওঠে, সেজন্য প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

১০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বরাদ্দ পাওয়ায় দেশের হাজার হাজার এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকদের এমপিও আপডেট (Madrasah teachers MPO update) নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের মানসিক দুশ্চিন্তার অবসান ঘটলো। সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপের কারণে জুলাইয়ের শুরুতেই শিক্ষকরা তাদের বকেয়া অর্থ বুঝে পাবেন বলে আশা প্রকাশ করছে মাদ্রাসা শিক্ষক সংগঠনগুলো।

একনজরে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের মূল তথ্য (Madrasah Teachers Arrear Salary Updates at a Glance)

বিষয়ের ক্ষেত্র
(Subject Area)
শিক্ষামন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ও মূল আপডেট
(Minister's Decision & Key Updates)
বর্তমান স্থিতি ও প্রভাব
(Current Status & Impact)
বকেয়া বেতন প্রাপ্তি
(Arrear Salary Payment)
বাজেট জটিলতায় আটকে থাকা মাদ্রাসা শিক্ষকদের মে মাসের বকেয়া বেতন আগামী জুলাই মাসের শুরুতেই প্রদান করা হবে। জুলাই মাসেই টাকা ছাড়
বিশেষ বরাদ্দ তহবিল
(Special Budget Allocation)
এনটিআরসিএর (NTRCA) মাধ্যমে নতুন নিয়োগ পাওয়া ১৭ হাজার শিক্ষকের বেতনের ঘাটতি মেটাতে জরুরি ভিত্তিতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত
প্রথম ধাপের সুবিধাভোগী
(First Phase Beneficiaries)
মাদ্রাসা শিক্ষকদের মধ্যে যারা জনতা ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বেতন তোলেন, তারা জুলাইয়ের শুরুতেই প্রথম কিস্তির টাকা পাবেন। জনতা ব্যাংকের গ্রাহকরা অগ্রাধিকারে
অন্যান্য শিক্ষকদের বেতন
(Other Teachers Salary)
জনতা ব্যাংক বাদে বাকি অন্যান্য ব্যাংকের মাধ্যমে যারা ইএফটি বা সরকারি অনুদান পান, তাদের বেতনও পর্যায়ক্রমে দ্রুত দেওয়া হবে। ধারাবাহিকভাবে পরিশোধ করা হবে


এসআর