প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশের সময় জানালো অধিদপ্তর, সহজেই দেখবেন যেভাবে

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল | ছবি: এখন টিভি
0

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল বা প্রাইমারি স্কলারশিপ রেজাল্ট প্রকাশের সুনির্দিষ্ট সময় নিয়ে সাড়ে ৬ লাখ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সুখবর দিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (Directorate of Primary Education - DPE updates)। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি জুন মাসের শেষ সপ্তাহেই এই ফল প্রকাশ করতে দিনরাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা (Primary Scholarship Result 2026: Check IPEMIS Server Link, Marksheet and Scholarship Policy)। ইতিমধ্যে অধিদপ্তরের অফিশিয়াল আইপিইএমআইএস লাইভ সার্ভারে ফল দেখার রেজাল্ট লিংকও উন্মুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি (IPEMIS live server result link)।

আজ (সোমবার, ২২ জুন) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন:

ফল প্রস্তুতের সর্বশেষ আপডেট ও লাইভ সার্ভার লিংক (Primary Scholarship Result Preparation & Server Status)

অধিদপ্তরের তথ্য-ব্যবস্থাপনা-বিভাগের সিস্টেম অ্যানালিস্ট দিলীপ কুমার সরকার জানান, প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রস্তুতের কার্যক্রম এখন একদম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রেজাল্ট পুরোপুরি প্রস্তুত, শুধু ডাটাবেজের সামান্য কারিগরি যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত ফল প্রশাসন বিভাগে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এরপর প্রশাসন বিভাগ ফল প্রকাশের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময় নির্ধারণ করবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (সংস্থাপন) এ. এস. এম. সিরাজুদ্দোহা জানান, "ফল প্রকাশে আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। তথ্য বিভাগ থেকে চূড়ান্ত ডাটা হাতে পেলেই একটি জরুরি মিটিং করে তার পরের দিনই ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা সম্ভব হবে। আমরা শতভাগ আশাবাদী যে চলতি মাসের শেষের দিকেই শিক্ষার্থীরা তাদের রেজাল্ট হাতে পাবে।"

চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সারা দেশ থেকে মোট ৬ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে (Total 6.40 lakh candidates in primary scholarship exam)। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ এবং বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।

আরও পড়ুন:

সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের বৃত্তি বণ্টন নীতিমালা এবং ৮২,৫০০ কোটা (Government and Kindergarten Scholarship Distribution Policy)

বৃত্তি বণ্টন ও কোটা নীতিমালা সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক জানিয়েছেন, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি হওয়ায় মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সর্বমোট ৮২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তি দেওয়া হবে (Total 82,500 students to receive primary scholarship)। এর বিস্তারিত কোটা বিভাজন নিচে দেওয়া হলো:

মেধাবৃত্তি বা ট্যালেন্টপুল (Talentpool Scholarship): মোট ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী এই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি পাবে। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ২৭ হাজার ৫০০টি এবং বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেনের জন্য ৫ হাজার ৫০০টি আসন সংরক্ষিত থাকবে।

সাধারণ বৃত্তি (General Category Scholarship): মোট ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী এই ক্যাটাগরিতে সুযোগ পাবে। যার মধ্যে সরকারি স্কুলের জন্য ৪১ হাজার ২৫০টি এবং বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ হাজার ২৫০টি বৃত্তি বরাদ্দ রয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, উভয় ক্যাটাগরিতেই ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রীর জন্য কঠোরভাবে জেন্ডার কোটা সংরক্ষিত থাকবে। ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ক্ষেত্রে উপজেলা বা থানাভিত্তিক মেধাক্রম এবং সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডভিত্তিক মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

আরও পড়ুন:

বৃত্তির টাকার পরিমাণ ও মাসিক ভাতার হার (Primary Scholarship Monthly Allowance & Money Amount)

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক ও এককালীন ভাতার পরিমাণও চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী বছর এই বৃত্তির হার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান হার নিচে দেওয়া হলো:

শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বৃত্তি ও ভাতার হার ঘোষণা: কোন ক্যাটাগরিতে কত টাকা?

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করতে এবং মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে নতুন বৃত্তি ও ভাতার হার ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের বৃত্তি কার্যক্রমে প্রধানত দুটি ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীদের এই আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হবে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী এককালীন অনুদান এবং মাসিক ভাতার পরিমাণের বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:

১. মেধাবৃত্তি বা ট্যালেন্টপুল (Talentpool Scholarship)

যেসব শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় শীর্ষে থেকে ট্যালেন্টপুল বা মেধাবৃত্তি লাভ করবে, তারা প্রতি মাসে ৩০০ টাকা করে মাসিক ভাতা পাবে। এর পাশাপাশি এই ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীরা এককালীন অনুদান হিসেবে পাবেন ২২৫ টাকা।

২. সাধারণ বৃত্তি (General Category Scholarship)

সাধারণ কোটায় বা সাধারণ ক্যাটাগরিতে যারা বৃত্তির জন্য মনোনীত হবে, তাদের মাসিক ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২২৫ টাকা। এছাড়া এই ক্যাটাগরির সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এককালীন অনুদান হিসেবে ২২৫ টাকা করে পাবেন।

কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ ও মেধাবী উভয় স্তরের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ চালাতে এবং তাদের মেধার যথাযথ স্বীকৃতি দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ (Primary Scholarship Exam Timeline Summary)

চলতি বছরের গত ১৫ এপ্রিল বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে দেশের ৬১টি জেলায় একযোগে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। এরপর ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে মূল পরীক্ষা শেষ হয়। তবে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ১৭, ১৮, ১৯ ও ২০ এপ্রিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, চলতি বছরই প্রথমবারের মতো দেশের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তথা কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরাও সরকারি এই বৃত্তি পরীক্ষায় সরাসরি অংশগ্রহণের ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছে (Kindergarten students allowed in primary scholarship exam)।

ঘরে বসেই রেজাল্ট চেক করার ২টি সহজ উপায়:

১. অনলাইনের মাধ্যমে (রোল নম্বর দিয়ে):

  • ipemis.dpe.gov.bd অথবা dpe.gov.bd ওয়েবসাইটে যান।
  • পরীক্ষার সন (প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা) সিলেক্ট করুন।
  • শিক্ষার্থীর রোল নম্বর দিয়ে 'সাবমিট' করলেই রেজাল্ট স্ক্রিনে চলে আসবে। এখান থেকে জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক PDF মেধা তালিকাও ডাউনলোড করা যাবে।

২. মোবাইল এসএমএস-এর মাধ্যমে:

  • যেকোনো মোবাইল থেকে মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন: DPE <স্পেস> রোল নম্বর এবং পাঠিয়ে দিন ১৬২২২ নম্বরে।
  • (উদাহরণ: DPE 123456 লিখে Send করুন 16222 নম্বরে)। ফিরতি এসএমএস-এ ফলাফল চলে আসবে।

একনজরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল, কোটা বণ্টন ও বৃত্তির টাকার পরিমাণ (Primary Scholarship Result, Quota Distribution & Allowance Structure at a Glance)



বৃত্তির প্রকার ও কোটা
(Scholarship Category)
সরকারি স্কুলের কোটা (৮০%)
(Govt School Seats)
বেসরকারি/কেজি কোটা (২০%)
(Kindergarten Seats)
ভাতা ও বৃত্তির হার
(Scholarship Allowance)
মেধাবৃত্তি / ট্যালেন্টপুল
(মোট আসন: ৩৩,০০০)
২৭,৫০০ জন ৫,৫০০ জন মাসিক: ৩০০ টাকা
এককালীন: ২২৫ টাকা
সাধারণ বৃত্তি
(মোট আসন: ৪৯,৫০০)
৪১,২৫০ জন ৮,২৫০ জন মাসিক: ২২৫ টাকা
এককালীন: ২২৫ টাকা
সর্বমোট কোটা ও নিয়ম
(Total & Gender Quota)

সর্বমোট বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী: ৮২,৫০০ জন (মোট পরীক্ষার্থী: ৬ লাখ ৪০_ হাজার)।

জেন্ডার কোটা সমতা: প্রতিটি ক্যাটাগরিতে কঠোরভাবে ৫০% ছাত্র এবং ৫০% ছাত্রীর সমতা রাখা হবে।

বাছাই পদ্ধতি: ট্যালেন্টপুল বৃত্তি উপজেলা ভিত্তিক মেধাক্রম এবং সাধারণ বৃত্তি ইউনিয়ন/ওয়ার্ড ভিত্তিক দেওয়া হবে।

ফল ও লাইভ লিংক

ফল প্রকাশের তারিখ: জুন ২০২৬-এর শেষ সপ্তাহ (কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে)।

অফিশিয়াল সার্ভার পোর্টাল: ডিপিই (DPE) এর নির্দেশনায় আইপিইএমআইএস (IPEMIS) লাইভ সার্ভারে লিংক উন্মুক্ত করা হয়েছে।

অভিভাবক ও শিক্ষক নোটিশ: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ রোল নম্বর ও স্টুডেন্ট আইডি (Student ID) ব্যবহার করে অনলাইন পোর্টাল থেকে মার্কশিটসহ ফল ডাউনলোড করতে পারবেন। এছাড়া নিজ নিজ উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকেও বৃত্তির অফিশিয়াল পিডিএফ গেজেট সংগ্রহ করা যাবে।

আরও পড়ুন:

প্রাথমিক বৃত্তির ফলাফল ২০২৬ | প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার রেজাল্ট দেখার লিংক | প্রাথমিক বৃত্তির মার্কশিট ডাউনলোড | প্রাথমিক বৃত্তির টাকার নতুন নিয়ম | প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশের তারিখ

এসআর