টাঙ্গাইল পৌরসভার অর্থায়নে কচুয়াডাঙ্গা চরপাতুলী এলাকায় লৌহজং নদীর উপর ৪০ মিটার সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের নভেম্বরে। ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রিজের নির্মাণ কাজ পায় ‘তাপস অ্যান্ড সনি’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২২ সালের মে মাসে সেতুর কাজ শেষ হলেও ৬ বছরেও সংযোগ সড়কের কাজ এখনও শেষ হয়নি।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে ব্রিজের কাজ শেষ হলেও উভয় পাশে হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে যাতায়াতে দুর্ভোগই যেন নিত্যসঙ্গী মানুষের। স্থানীয়রা বলছেন, কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলা আর ঠিকাদারের গাফিলতিতে ৬ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। ফলে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে, আর গুণতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।
এছাড়াও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করায় ব্রিজ থেকে পড়ে অনেকেই আহত হয়েছেন। পাশাপাশি জরুরি রোগী, বৃদ্ধ, শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীরা জানান, প্রতি বছরই মেরামত করা হয়। এরপরও, ভেঙে যায়। এছাড়ও শিশুদের স্কুলে যাওয়ার সময় অনেক কষ্ট হয়।
রাষ্ট্রীয় সম্পদ যথাযথ ব্যবহারের নিশ্চিতের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ লাঘবে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান করেন এ আইনজীবী।
টাঙ্গাইল জজকোর্টের আইনজীবী মালেক আদনান বলেন, ‘দায়িত্বশীলদের উদাসীনতার কারণে জনকল্যাণে নির্মিত ব্রিজটি এখন জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত জনস্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।’
এদিকে ঠিকাদার বলছেন, কাজের পুনরায় মেয়াদ বাড়লে জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে।
ঠিকাদার আবু সাইদ বলেন, ‘ডিজাইন সংশোধনের কারণে কাজ বন্ধ হয়ে আছে। ডিজাইন অ্যাপ্রুভ করার জন্য ঢাকাতে পাঠানো হয়েছে। ডিজি অফিসে আছে, এটা অ্যাপ্রুভ হলে, এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা যাবে।’
আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী।
টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলী বলেন, ‘কাজটি ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ দ্রুতই শেষ করা হবে। ঠিকাদার নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না করার জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
কাজ শেষ না হওয়ায় ব্রিজটি প্রায় অর্ধযুগ যাবৎ জনকল্যাণের পরিবর্তে জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। ব্রিজের কাজ দ্রুত শেষ হলে জনদুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি এর প্রভাব পড়বে প্রান্তিক অর্থনীতিতে।





