গত সপ্তাহে তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক সই করেছে, যা দীর্ঘ চার মাসের যুদ্ধের অবসানে একটি প্রাথমিক ধাপ হিসেবে কাজ করছে। এই চুক্তির ফলে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচিসহ অন্যান্য জটিল বিষয়গুলো সমাধানের পথ প্রশস্ত হয়েছে। জাপানে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রোসি বলেন, ‘পরমাণু পরিদর্শন অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে। আমরা খুব দ্রুতই তেহরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিদর্শনের তারিখ, স্থান ও পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু করবো।’
গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের স্পর্শকাতর পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে বোমা হামলা চালানোর পর থেকে আইএইএ-র পরিদর্শকদের সেখানে প্রবেশ করতে দেয়নি তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অন্যান্য সাইটগুলোতেও পরিদর্শন কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এবারের আলোচনার প্রধান বিষয় হবে ইরানের কাছে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, বিশেষ করে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম—যা দিয়ে সহজেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব।
রাফায়েল গ্রোসি বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের সব ধরনের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড ও স্থাপনা আইএইএ তদারকি করবে। ইরান যদি চুক্তি মেনে চলতে চায়, তবে তাদের অবশ্যই পরিদর্শনের অনুমতি দিতে হবে।’ আইএইএ-র হিসাব অনুযায়ী, গত বছর প্রথম হামলার আগে ইরানের কাছে অন্তত ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল, যা দিয়ে অন্তত ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব। সংস্থাটি ধারণা করছে, ইরানের ইসফাহানের একটি সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্সে এখনো ২০০ কেজির বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে।
 Director General Rafael Grossi-768x402.webp)




