ব্রিটিশ রাজনীতিতে আবারও শুরু হয়েছে নেতৃত্বের সংকট। একের পর এক প্রধানমন্ত্রীর বিদায়ের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো কিয়ার স্টারমারের নাম।
তাই চারদিকে প্রশ্ন উঠছে—স্টারমারের পদত্যাগ কি শুধু একজন নেতার বিদায়, নাকি ব্রিটিশ রাজনৈতিক ব্যবস্থার গভীর সংকটের নতুন সংকেত?
ক্ষমতায় আসার পর স্টারমারকে ঘিরে বড় প্রত্যাশা ছিল সমর্থকদের মধ্যে। কিন্তু সরকার পরিচালনার শুরু থেকেই নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে স্টারমারকে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চাপ, করনীতি নিয়ে অসন্তোষ, সরকারি সেবা নিয়ে মানুষের হতাশা এবং দলের ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে তাঁর সরকারের ওপর চাপই পদত্যাগের মূল কারণ মনে করেন অনেকে।
আরও পড়ুন
যুক্তরাজ্যের আইনজীবী মুফতি নাফিস বলেন, ‘লেবার পার্টি যে জিনিসটা করতে পারেনি, সেই জিনিসগুলো হলো—তার ইমিগ্রেশন ফ্রেন্ডলি কোনো এনভায়রনমেন্ট তৈরি করতে পারেনি, অর্থনৈতিক চাকা সচল করতে তারা পারেননি। এ দেশের সাধারণ জনগণের স্বচ্ছলতার জায়গা, বরোয়িং ক্যাপাসিটি, ব্যয় করার ক্যাপাসিটি ইনক্রিজ (বৃদ্ধি) করতে পারেননি। কোনো অভূতপূর্ব বা স্বচ্ছল বা কোনো সুন্দর একটি জায়গায় ইউনাইটেড কিংডমকে গভর্নমেন্ট লেবার পার্টি নিয়ে আসতে পারেনি।’
এছাড়াও, স্টারমারের পদত্যাগ শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তন নয় বরং এটি ব্রিটিশ রাজনীতির গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়াও, নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে লেবার পার্টির ভবিষ্যৎ, দলের ঐক্য এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও। পাশাপাশি আসছে নতুন নেতৃত্বের জন্য জনআস্থা ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ বলেন, ‘এই চরম অস্থিতিশীলতার কারণে যেটা ব্রিটিশ রাজনীতিতে ঘটবে, সেটা হচ্ছে চরম ডানপন্থী দলের আবির্ভাব ঘটবে। এরই মধ্যে ঘটা শুরু হয়েছে। অনেকে বলছে, চরম ডানপন্থী দল আগামীতে হয়তো সরকারও গঠন করে নিতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছেন যে, সরকার গঠন না করলেও হাং পার্লামেন্ট হতে পারে। তো এগুলা খুবই শঙ্কার বিষয়।’
এছাড়াও, স্টারমারের বিদায় আবার পুরোনো প্রশ্ন সামনে এনেছে—ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার কি এখন স্থায়ী নেতৃত্বের আসন, নাকি রাজনৈতিক ঝড়ের কেন্দ্র।




