ফিফার ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞায় বেশ কিছুদিন ধরেই চাপে ছিলো দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ঢাকা আবাহনী। তবে এবার সেই শঙ্কা কাটার পথে।
২০২৪-২৫ মৌসুমে আবাহনীর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ তিন বিদেশি ফুটবলার রিচমন্ড বোয়াকিয়ে, কেনেডি আমুতেনিয়া ও মোয়ায়াদ আল খৌলি পারিশ্রমিক ও বাংলাদেশে না আসা নিয়ে ফিফার কাছে অভিযোগ করেন। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে আবাহনীর ওপর আসে তিনটি ট্রান্সফার উইন্ডোর নিষেধাজ্ঞা।
ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু বলেন, ‘পটপরিবর্তনের সময়ে যে খেলোয়াড়দের দলভুক্ত করা হয়েছিলো, তারা বাংলাদেশে না এসেও ক্লাব সম্পর্কে না জেনে, তখনকার ওই পরিস্থিতিতে তাদের আসার সুযোগ ছিলো না বিধায়, ক্লাব তখন যারা দেখাশোনা করেছেন, তারা তাদের কন্ট্রাক্টটা বাতিল করেছিলো এবং তারই একটা মাশুল গুনতে হচ্ছে এখন। তারা আমাদের কাছে দাবি করেছিলো এবং সেই দাবির প্রেক্ষিতে আমরা লড়াই করেছিলাম। কিন্তু ফিফা তাদের পক্ষে রায় দেয়ার কারণে এই ব্যানের মধ্যে আমরা ছিলাম।’
আরও পড়ুন:
নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলোয়াড়দের মনেও ছিলো শংকা। তবে ক্লাব ম্যানেজারের দাবি, ফুটবলারদের সাথে প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে ছাড় দেয়নি ক্লাব। বিশ্বকাপের আগেই একজনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয়েছে, আরেকজনের ব্যানও উঠেছে। এখন বাকি শেষ নিষেধাজ্ঞাটিও দ্রুত প্রত্যাহারের অপেক্ষা।
সত্যজিৎ দাস রুপু বলেন, ‘এই নিয়েধাজ্ঞাটা আমাদের জন্য অনেকটা লজ্জার এবং কষ্টের। এটা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমরা সর্বাত্মকভাবে কাজ করছি। আশা করছি এটা থেকে আমরা দ্রুত বেরিয়ে আসতে পারবো। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও খেলোয়াড়দের আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেটি রাখতে সক্ষম হয়েছি। তাই খেলোয়াড়রা সবসময় আমাদের দলে খেলার জন্য মুখিয়ে থাকে।’
নিষেধাজ্ঞার ধাক্কা সামলে এবার নতুন মৌসুমের দল গঠনে মনোযোগ আবাহনীর। ক্লাবের প্রত্যাশা, ফিফার আনুষ্ঠানিক বার্তা মিললেই খুলবে নতুন খেলোয়াড় ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ।
রুপু বলেন, ‘আমরা আসলে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে তাদের কী বার্তা দেই, সেটার জন্য তারা অপেক্ষায় আছে। এটা শেষ হলেই ক্লাব কর্তৃপক্ষ বসে ঠিক করবে যে, আগামীর পরিকল্পনা কী হবে।’
এদিকে ২০২৬-২৭ মৌসুমের ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের নথিপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা ১১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। সময়ের মধ্যেই ফিফার সবুজ সংকেত পাওয়ার প্রত্যাশা ঢাকা আবাহনীর।




