লিওনেল আন্দ্রেস মেসি— দ্য ম্যান, দ্য মিথ, দ্য গ্রেটেস্ট এভার! আরও একবার বিশ্বকে নাচালেন নিজের দুই পায়ে। বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিকের পর এবার করলেন জোড়া গোল। পেনাল্টি মিসের সমালোচনা উড়িয়ে দিলেন নিজের মহাত্ম্য দিয়ে।
তবে ম্যাচ শেষে হয়তো ভক্তদের এই পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ কিছুটা পোড়াবে। কেননা এই গোলটা হয়ে গেলেই মেসি পর পর দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিকের আরেকটি রেকর্ডে নিজের নাম লেখাতে পারতেন স্যান্দর কসিস ও জার্ড মুলারের পাশে। এর আগে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে পর পর দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিকের রেকর্ড যে কেবল এ দু’জনেরই আছে।
সোমবার (২২ জুন) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে একাদশে এক পরিবর্তন এনে ৪-৪-২ ফরমেশনে দল সাজান লিওনেল স্ক্যালোনি। ম্যাচের মাত্র ৮ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো আর্জেন্টিনা। তবে মেসির পেনাল্টি মিসে হতাশায় ফেটে পড়ে আলবিসেলেস্তে শিবির।
ম্যাচের ১৯ মিনিটেও গোলের দেখা পেতে পারতেন তিনি। তবে আবারও ব্যর্থ হন মেসি। ৩২ মিনিটে মেসির একটি দারুণ শট আটকে যায় অস্ট্রিয়ার কড়া রক্ষণে।
আরও পড়ুন:
তবে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়তে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকরকে। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। অসাধারণ অ্যার্টাক থেকে শেষ মুহুর্তে বক্সে ঢুকে বা পায়ের সেই মনোমুগ্ধকর বাকানো শট। আর উল্লাসে ফেটে যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা শুরু করে গোটা বিশ্ব।
১৭ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড ভেঙে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়লেন আলবিসেলেস্তা কাপ্তান। যার ফলে বিশ্বকাপে যৌথ সর্বোচ্চ টানা ৬ ম্যাচে গোল করার রেকর্ডও গড়েন তিনি।
র্যাংকিংয়ের ২২ নম্বরে থাকা অস্ট্রিয়া ম্যাচে আর্জেন্টিনার বুকে কাঁপন ধরায় ৫৫ মিনিটের মাথায়। তবে গোলবারের অতন্দ্র প্রহরী মার্টিনেজ বিপদ বাড়তে দেন নি আকাশী-সাদাদের ডেরায়। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে নেয়া নিকোলাস গোঞ্জালেসের হেড জালে জড়ালে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এসিস্টের মালিকও বনে যেতে পারতেন মেসি।
তবে সবাই যেখানে আটকে যান, সেখান থেকেই তো নতুন দিশা দেখান লিওনেল মেসি। ম্যাচের যোগ করা সময়ে আরও এক গোল করে সমালোচকদের যেন জানিয়ে দিলেন, দিন দুয়েক পর বয়স ৩৯ হতে যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু মেসিকে থামানোর সাধ্য নেই কারো।
উল্লেখ্য, এর আগে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছিলো আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন মেসি।





