বর্তমানে দেশে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত ৭.৬৩ টিসিএফ: খনিজসম্পদমন্ত্রী

বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু | ছবি: এখন টিভি
0

দেশে বর্তমানে উত্তোলনযোগ্য (রিকভারেবল) প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) রয়েছে। তবে দেশে প্রতিদিন গ্যাস সরবরাহে প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

আজ (সোমবার, ২২ জুন) সংসদে মেহেরপুর-১ আসনের বিরোধীদলের সদস্য মো. তাজউদ্দীন খানের টেবিলে উপস্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুতের পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৬৩ টিসিএফ।

তিনি বলেন, ‘আটটি গ্রাহক শ্রেণির অনুমোদিত গ্যাস লোডের ভিত্তিতে বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।’

এর বিপরীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত গড়ে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২ হাজার ৬৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়ে গেছে।

ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি সংসদকে জানান।

দেশিয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির কর্মসূচির আওতায় ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এরইমধ্যে ২৮টি কূপে খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।’

আরও পড়ুন:

তিনি জানান, অবশিষ্ট কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নতুন সম্ভাব্য গ্যাসক্ষেত্র চিহ্নিত করতে চলমান সিসমিক জরিপ কার্যক্রমের বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘ব্লক-৭ ও ব্লক-৯ এলাকায় প্রায় ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক (২ডি) সিসমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বর্তমানে এসব তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ চলছে।’

এছাড়া হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্রের আশপাশে ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সিসমিক জরিপ শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও জানান, ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় ৬৬০ বর্গকিলোমিটার, জামালপুরে ৬৫০ বর্গকিলোমিটার, তিতাস, হবিগঞ্জ ও নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্র সংলগ্ন এলাকায় ৬৩২ বর্গকিলোমিটার এবং লামিগাঁও, লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, কৈলাশটিলা দক্ষিণ ও ফেঞ্চুগঞ্জ পশ্চিম গ্যাসক্ষেত্র সংলগ্ন কাঠামোতে ৮৮২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় আরও ৩ডি সিসমিক জরিপের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান বাপেক্স-কে শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে ২ হাজার এবং ১ হাজার ৫০০ হর্স পাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন দু’টি নতুন ড্রিলিং রিগ ক্রয়ের কার্যক্রমও এগিয়ে নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘ভোলায় আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রগুলোকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে ভোলা-বরিশাল-জাজিরা-মাওয়া-আমিনবাজার গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করেছে এবং এ লক্ষ্যে বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

এসএস