বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া সংস্থাগুলোর দেওয়া সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২ থেকে ৩ দিন এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
মেঘালয়-ত্রিপুরায় রেকর্ড বৃষ্টি ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস (Heavy Rainfall Forecast in Bangladesh and India Uzian)
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী এবং রংপুর, সিলেট ও ঢাকা বিভাগে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে (Heavy to very heavy rainfall in Bangladesh)। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা ও অরুণাচল প্রদেশেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২ দিন বাংলাদেশের রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা প্রদেশে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর পরবর্তী ৩ দিন মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
আরও পড়ুন:
যে ৬ জেলায় বিপৎসীমার উপরে থাকবে পানি ও বন্যার তালিকা (List of 6 Districts Under Flood Risk)
উজান থেকে নেমে আসা পানি এবং দেশের অভ্যন্তরে অতি বৃষ্টির কারণে মূলত উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করবে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঝুঁকিতে থাকা জেলাগুলো হলো:
সিলেট ও সুনামগঞ্জ (Sylhet and Sunamganj): সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে আগামী ৩ দিনে এই দুই জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে (Surma-Kushiyara river water level above danger mark)।
নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর (Nilphamari, Lalmonirhat, Kurigram, and Rangpur): উত্তরাঞ্চলের ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী ২ দিন বৃদ্ধি পেয়ে তৃতীয় দিনে স্থিতিশীল হতে পারে। ফলে আগামী ৭২ ঘণ্টায় এই ৪টি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে (Dharla and Dudhkumar river flood alert)।
আরও পড়ুন:
প্রধান নদ-নদীর সর্বশেষ পরিস্থিতি ও পানি সমতল আপডেট (Major Rivers Water Level Status Update)
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা: গত ২৪ ঘণ্টায় এই প্রধান নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী ৫ দিনও পানি সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আশার কথা হলো, এগুলো এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে (Brahmaputra-Jamuna and Padma river water level today)।
ময়মনসিংহ বিভাগ: সোমেশ্বরী, জিঞ্জিরাম, ভুলাই ও কংস নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে এবং পানি সতর্কসীমায় থাকবে।
চট্টগ্রাম বিভাগ: গত ২৪ ঘণ্টায় সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে আবহাওয়া সংস্থাগুলো বলছে, পাহাড়ি ঢলের কারণে আগামী ৩ দিনে এই নদীগুলোর পানি অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে (Chittagong division rivers water level flash flood alert)।
আরও পড়ুন:
একনজরে দেশের ৬ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস ও নদী পরিস্থিতি ২০২৬
Heavy Rainfall & Flood Alert Status for 6 Districts in Bangladesh
বিভাগ (Division)
ঝুঁকিপূর্ণ জেলা (Risk Districts)
প্রধান নদ-নদী (Major Rivers)
আগামী ৭২ ঘণ্টার প্রভাব (72 Hours Impact)
সিলেট বিভাগ
সিলেট, সুনামগঞ্জ
সুরমা, কুশিয়ারা, খলাই, খোয়াই
পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হতে পারে।
রংপুর বিভাগ
নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর
ধরলা, দুধকুমার (তিস্তা বর্তমানে হ্রাসমান)
পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করবে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবে।
ময়মনসিংহ বিভাগ
নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ, শেরপুর
সোমেশ্বরী, জিঞ্জিরাম, ভুলাই, কংস
পানি বৃদ্ধি পেয়ে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হবে এবং কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবন দেখা দেবে।
চট্টগ্রাম বিভাগ
পার্বত্য ও উপকূলীয় এলাকা
সাঙ্গু, গোমতী, মুহুরী, ফেনী, হালদা, মাতামুহুরী
ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢলে আগামী ৩ দিনে সব নদীর পানি অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
আরও পড়ুন:



