নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ বিপরীত। বামপন্থি সিনেটর ইভান সেপেদা বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ‘টোটাল পিস’ বা পূর্ণাঙ্গ শান্তি কৌশলের অন্যতম কারিগর। তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত মেটানোকে অগ্রাধিকার দেন। ২০১৬ সালে ফার্ক গেরিলাদের সঙ্গে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতেও তার বড় ভূমিকা ছিল। সেপেদার সমর্থকদের মতে, এই প্রক্রিয়া প্রাণহানি কমায়। তবে সমালোচকদের দাবি, আলোচনার সুযোগে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়িয়ে নিয়েছে।
অন্যদিকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রক্ষণশীল ব্যবসায়ী ও আইনজীবী আবেলুর্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। ‘এল তিগরে’ বা বাঘ নামে পরিচিত এই নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থন পেয়েছেন। এসপ্রিয়েলা যুক্তরাষ্ট্রেরও নাগরিক। তিনি অপরাধীদের দমনে ‘দশটি মেগা কারাগার’ নির্মাণ এবং সামরিক অভিযানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার সাফ কথা, কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা নয়, বরং যারা আত্মসমর্পণ করবে না তাদের নিশ্চিহ্ন করা হবে।
কলম্বিয়ায় বর্তমানে ফার্ক-এর বিদ্রোহী গোষ্ঠী, ইএলএন এবং ক্ল্যান দেল গোলফোর মতো সশস্ত্র সংগঠনগুলো মাদক পাচার ও অবৈধ খনির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। বোগোতার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা এদিলমা মার্তিনেজ বলেন, ‘চাঁদা না দেয়ায় আমার ভাইকে তার সন্তানদের সামনেই হত্যা করা হয়েছে। আমরা সব ফেলে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি।’
এই নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ নিয়ে কলম্বিয়ার বামপন্থি মহলে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। ট্রাম্প এসপ্রিয়েলাকে সমর্থনের পাশাপাশি সেপেদাকে ‘উগ্র বামপন্থি মার্ক্সবাদী’ বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্পের মতে, এসপ্রিয়েলা জিতলে কলম্বিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন পাবে। অন্যদিকে তরুণ ভোটারদের মধ্যে সেপেদার জনপ্রিয়তা বেশি। তারা মনে করেন, কেবল দমন-পীড়ন নয়, বরং দারিদ্র্য ও বৈষম্যের মতো মূল সমস্যাগুলো সমাধান করলেই দেশে শান্তি ফিরবে।





