চলমান এই প্রাদুর্ভাব এখন পর্যন্ত ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম। কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজন করছে, যা বিশ্বজুড়ে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে। ঠিক এমন সময়েই এই প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় ‘শক্তিশালী ও তাৎক্ষণিক সহায়তা’ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তবে তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, বৈশ্বিক ঝুঁকি এখনো কম রয়েছে।
সিডিসির ইবোলা প্রতিরোধ কার্যক্রমের ব্যবস্থাপক ড. সতীশ কে পিল্লাই সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ডিআরসির ৩১টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে আমরা প্রায় ১ হাজার নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। উগান্ডার কাম্পালায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩১।’ তিনি জানান, সিডিসির ২৩ জন মাঠকর্মী রোগের তদন্তে সহায়তা করছেন এবং ডিআরসি ও উগান্ডায় মোট ১২৫ জন কর্মী রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ আয়োজক শহরগুলোর সঙ্গে সিডিসি সপ্তাহে দুবার করে যোগাযোগ রাখছে।
এক মাস আগে ডিআরসির পশ্চিম সীমান্ত এবং উগান্ডার পূর্ব সীমান্ত বরাবর ‘বুন্দিবুগিও ভাইরাল ডিজিজ’ (বিভিডি) নামে রোগটির প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। এটি ইবোলার একটি বিরল প্রাণিবাহিত প্রজাতি। সাম্প্রতিক সময়ে কঙ্গো ও উগান্ডায় এই রোগে আক্রান্তদের মধ্যে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে। আফ্রিকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, সংক্রমণের বর্তমান হারে এই প্রাদুর্ভাব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং নিয়ন্ত্রণে আনতে এক বছর সময় লেগে যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকা ও পূর্ব ডিআরসিতে ২৮ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং ১১ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জুন পর্যন্ত ডিআরসিতে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৩৭ জন এবং উগান্ডায় ১৯ জন। এই দুই দেশে এখন পর্যন্ত মোট ১৯৮ জন মারা গেছেন।
ডিআরসি ও উগান্ডায় ঝুঁকি বেশি হলেও বৈশ্বিক ঝুঁকি কম। কোভিড-১৯ বা হামের মতো বায়ুবাহিত রোগের বিপরীতে এই রোগ মূলত রক্ত, শারীরিক নিঃসরণ এবং দূষিত পৃষ্ঠের সরাসরি সংস্পর্শে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়ায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ ২২টি দেশ ইতিমধ্যেই এই দুই দেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আফ্রিকার স্বাস্থ্য নেতাদের মতে, ইবোলা মোকাবিলায় প্রতিশ্রুত প্রায় ৯১০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে দাতাদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ১০ শতাংশেরও কম অর্থ পাওয়া গেছে।




