সমঝোতার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বনিম্ন। তবে হরমুজ প্রণালি খুলে গেলেও লেবাননে যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। বৃহস্পতিবার সরাইলি বাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। কফরতেবনিট ও জেবদিন শহরে এসব হামলায় অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের সই করা সমঝোতা স্মারকে লেবাননে ‘স্থায়ী যুদ্ধ বন্ধ’ এবং দেশটির ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব’ নিশ্চিত করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল যে, যেকোনো শান্তি চুক্তিতে লেবানন ইস্যুটিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। ট্রাম্প সম্প্রতি ইসরাইলের অভিযানের সমালোচনা করে বলেছেন, হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের মারতে গিয়ে ইসরাইল অপ্রয়োজনীয়ভাবে একের পর এক ভবন ধ্বংস করছে।
তবে ইসরাইল এই সমঝোতার শর্ত মানতে নারাজ। প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলসহ দখল করা এলাকাগুলোতে সেনা মোতায়েন রাখতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘কঠিন’ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইসরাইল বৃহস্পতিবার একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে দক্ষিণ লেবাননের বিশাল এলাকাকে তারা ‘বাফার জোন’ বা সুরক্ষা অঞ্চল হিসেবে দেখিয়েছে।
লেবাননের সাধারণ মানুষের মধ্যে এই সমঝোতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজধানী বৈরুতে তাঁবুতে আশ্রয় নেয়া মোহাম্মদ দগমান বলেন, ‘ইরান ও আমেরিকার কাজ শেষ, ঠিক আছে। কিন্তু লেবাননে তো এখনো শেষ হয়নি। আমাদের একটি চূড়ান্ত জবাব দরকার—যুদ্ধ কি চিরতরে শেষ হলো, নাকি আমরা আবার এতে ফিরে যাবো?’ অন্যদিকে, ইসরাইলে এই চুক্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুকে এখন ট্রাম্পের সমর্থন বজায় রাখা অথবা সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে।





