নরসিংদীতে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ: টেটাঁবিদ্ধ আরও ১ জনের মরদেহ উদ্ধার, নিহত বেড়ে ৩

সংঘর্ষের প্রতীকী ছবি
সংঘর্ষের প্রতীকী ছবি | ছবি: সংগৃহীত
0

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষ্যা ইউনিয়নে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় টেটাঁবিদ্ধ অবস্থায় কাউছার মিয়া নামে আরও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ (বুধবার, ১৭ জুন) বিকেলে মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।নিহত কাউছার মিয়া (৩৫) নিলক্ষা ইউনিয়নের শাহ আলম মিয়ার ছেলে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে টেঁটাবিদ্ধ করে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছিল। পরে পানির স্রোতে ভেসে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে মরদেহটি ভেসে ওঠে।

মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মরদেহটি রায়পুরা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

এ ঘটনায় রায়পুরা থানার মামলায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা তারাই গ্রহণ করবে।

আরও পড়ুন:

এর আগে সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল (মঙ্গলবার, ১৬ জুন) নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের সোনাকান্দি এলাকার হরজু মিয়ার ছেলে বুলবুল মিয়া এবং পূর্বপাড়া এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ওসমান মিয়ার ছেলে অনিক মিয়ার (২২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোরে নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও এলাকায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জবা ও মিস্টার গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।

এ বিরোধে মিস্টার গ্রুপের মামুন নামে এক প্রবাসী হত্যার পর দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া থাকা হত্যা মামলার আসামি জবা মেম্বার ও সহযোগী আলাল মুন্সিসহ তাদের গ্রুপের লোকজন এলাকা ছাড়ার পর দফায় দফায় ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের নিয়ে এলাকায় উঠার চেষ্টা করছিল জবা গ্রুপ। আলাল মুন্সি ও সাবেক ইউপি সদস্য জবা মিয়ার অনুসারীরা মঙ্গলবার ভোরে স্পিডবোটে করে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে।

এসময় প্রতিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে উভয়পক্ষ দেশিয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ দ্রুত হরিপুর ও দড়িগাঁও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলতে থাকে এতে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরে দু’জনের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এসএস